করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার ৬ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্স করে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। সেখানে একটি অর্ডিন্যান্স পাশ করানো হয়। ঠিক হয়, ১ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদদের বেতন ৩০ শতাংশ করে কেটে নেওয়া হবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায়। তা থাকবে দেশের কনসলিডেটেড ফান্ডে। এ ছাড়াও ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ এই দুই অর্থবর্ষের সাংসদ তহবিলের টাকাও ওই কনসলিডেটেড ফান্ডে যাবে। সাংসদ তহবিলের দুই বছরের টাকার মোট পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৭৯০০ কোটি টাকা।
বেতন কাটছাঁট করায় আপত্তি না থাকলেও প্রশ্ন আসছে সাংসদ তহবিলের টাকা আটকানো নিয়ে। মোদীবাবু, আপনি তো সব দলকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করে বৈঠক করবেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দিন দুই অপেক্ষা করতে পারলেন না?
সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ হয় এলাকা উন্নয়নে। অর্থাৎ এলাকা উন্নয়নের বরাদ্দ আপনি আটকে দিলেন!
বিহারের আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা মোদীবাবুকে চিঠি লিখে বলেছেন, বেতন কাটছাঁট মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু মানা যায় না সাংসদ তহবিলের টাকা আটকে দেওয়া। বরং করোনা প্রভাবিত দুটো করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারত সাংসদদের। গড়ে তোলা যেত চিকিৎসা পরিকাঠামো। বিহারের অনেক হাসপাতালে তো পিপিই পৌঁছায়নি এখনও!
কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেল বলেছেন, মন্ত্রী, সাংসদদের বেতন কাটার আগে প্রধানমন্ত্রী তো ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গড়তে পারেন। তাঁর সাধের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে এই করোনা পরিস্থিতিতেও বরাদ্দ হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। কী, না ওই এলাকার খোলনলচে বদলে সংস্কার হবে, সৌন্দর্যায়ন হবে! এই বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রথম সরব হন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এরপর কংগ্রেস-সহ বাকিরা সরব হচ্ছে।
মোদীবাবু, গ্রাম, শহরের উন্নয়ন আটকানো কি খুব জরুরি ছিল? তা জারি রেখে তো পরেও সেন্ট্রাল ভিস্তা করা যেত। ওটা এখন না হলে দেশবাসীর কোন ক্ষতিটা হতো? তুঘলকি কারবার চালিয়ে ৮ তারিখ লোকদেখানো ভিডিও কনফারেন্স করার যৌক্তিকতা কী?