ক্যালেন্ডারে সাল বলছে ২০২০। আর সময় বলছে মহামারীর তান্ডব। ঠিক এমন সময় বাতিল হল দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা। বদলে গেল একগোছা তরতাজা ফুলের ভবিষৎ।
করোনার দাপুটে ইনিংস-এর সামনে নতিশিকার করল শিক্ষা ব্যবস্থা। অর্ধ-সমাপ্ত পরীক্ষাতেই ফলঘোষণা হল দ্বাদশ শ্রেণীর। পরীক্ষার নম্বর-এ কেউ হল তৃপ্ত, কেউ অমাবস্যার অন্ধকারে সন্ধ্যাবাতির খোঁজে নামল। চিরাচরিত পাঠক্রিয়াটা নিমিষে বদলে গেল।
যে মেয়েটা শুনে এসেছে তার মায়ের কাছে কলেজের গল্প, তা যেন স্বপ্নই রয়ে গেল। কলেজের গেটে কোনো দাদারা ভিড় করে দাঁড়ায়নি, কেউ তাদেরকে ভর্তির ফর্ম তোলার লাইনে নিয়ে যায়নি। মেয়েটি শোনেনি কলেজের ক্লাস রুমের সামনে দিয়ে ছাত্র নেতাদের স্লোগান বা কলেজ ভোটের আগে সিনিয়রদের দলীয় প্রার্থীদের হয়ে ভোট দেয়ার নরমে-গরমে আবেদন। পাইনি নবীনবরণ এর স্বাদ, পাইনি বসন্তের মন কেমন করা কলেজ প্রেমের ডাক। পেল শুধু মোবাইলে বসে ক্লাস আর ডিজিটাল বন্ধু। যারা শুধু ফোনেই জানিয়েছে তাদের নিজেদের মাটির গন্ধ।
বহরমপুর পায়নি দক্ষিণ দিনাজপুরের মাটির গন্ধ, মালদার আমের স্বাদ, বর্ধমান তাদের মিহিদানা দিয়ে উপভোগ করতে পারেনি। ঠিক যেমন নদীয়ার কৃষ্ণ প্রেম কোচবিহারের রাজ-রাজাদের অভিযাত্য কলেজ ক্যান্টিনে মিশে যায়নি।
যে ছেলেটা তার দিদি-জামাইবাবুর কলেজ প্রেমের সম্পর্ককে বিয়ের ছাদনাতলায় এসে থামতে দেখলো, সে এখনও ল্যাপটপ ক্লাসে তার ভালো লাগার বান্ধবীকে সাহস করে শোনাতেই পারেনি বাঁশিতে তার ভালবাসার সুর।
সদ্য স্কুল পাস করা মধুরিমা, দেখেছে তার দাদাকে কলেজেই বেশি সময় দিতে। শিক্ষার সাথে সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য দাদার ছাত্র সংগঠনে পা রাখা। তার দাদা যখন কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হল, তখন তো দাদার সাথে কমই দেখা হত তার। দাদার কাছেই শুনেছে কলেজের গল্প, কেমন হয় নবীনবরণ, কলেজ ফাংশান, বন্ধুদের আড্ডা আর পিকনিক। সেই থেকেই কলেজ নিয়ে মনের অলিন্দে যে গল্প সে বুনেছে তা যেন বাস্তবের মাটিতে মেলে না। স্বপ্ন কী সত্যিই সত্যি হয় না! প্রশ্নের পোকা গুলো মাথায় ভিড় করে আসে বারবার।
কালচক্রে সময় অতিবাহিত হল, ভবিষৎ গুলো কোভিড-১৯-এর থেকে শুধু উপহার পেল থালা সাজানো একগুচ্ছ না পাওয়ার যন্ত্রণা। হারালো কলেজের সোনালী দিন, ক্যান্টিনে আড্ডা। হারিয়ে গেল হয়তো ‘বন্ধু কলেজ শেষে দেখা হবে’ বলা কণ্ঠস্বর। তবুও আশায় রয়েছে কলেজের গেট গুলো, বদলে যাবে এই সময়। ফের একটা ঝড় আসবে আর বলবে ‘আমাদের কলেজ জীবন মানেই…’