২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব করার উদ্দেশ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ১৩ জুন গ্রান্ড ওবেরয়ে এই সংক্রান্ত বিষয়ে এক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এখানে ‘ভিশন ২০৩০’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফিরহাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল, পরিবহণ সচিব, এস. রাজেশ কুমার সিনহা-সহ বিশিষ্টরা। এদিন মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, — বাস তৈরীকারক সংস্থা ব্যাটারির অভাবে পরিবেশবান্ধব তথা ব্যাটারি চালিত বাস বানাতে পারছেন না। ভারতে এই ব্যাটারি তৈরি হচ্ছে না। বিদেশ থেকে যাঁরা এই ব্যাটারি আনাচ্ছেন তাঁদের খরচ অনেক বেশি পড়ছে। একটা ব্যাকমেলিং হচ্ছে। অধিকাংশ টাকাই চলে যাচ্ছে ব্যাটারি কেনার জন্য। আমরা চেষ্টা করছি শহরে ব্যাটারি চালিত বাস চালাতে এর ফলে পরিবেশ রক্ষা পাবে। আমাদের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অনেক ট্যাক্স ছাড় দিয়েছেন। তার পরেও প্রয়োজন অনুপাতে ব্যাটারি চালিত বাস শহরে আনতে পারছি না। তার কারণ বাস প্রস্তুতকারি সংস্থাকে যন্ত্রপাতি অনেক দামে কিনতে হচ্ছে এবং তার প্রভাব গিয়ে পড়ছে আমরা যারা বাস কিনতে চাইছি তাঁদের ওপর।

তিনচাকার পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনার জন্য ব্যাঙ্কে ২০ শতাংশ ইনটারেস্ট দিতে হচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ কষ্টসাপেক্ষ। এই বিষয়ে ভারত সরকারের ভাবা উচিত। ইতিমধ্যে আমরা একটি ট্যান্সপোর্ট পলিসি করেছি। এতে ঠিক করা হয়েছে শহরে যত ট্রামডিপো আছে সেখানে চার্জিং স্টেশন তৈরি হবে ই-বাস তথা অন্যান্য পরিবহণের জন্য। কিছু বড় পার্কিং লটের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ অংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জায়গা নিয়ে চার্জিং স্টেশন তৈরি করব আমরা। এছাড়া ২০ হাজার স্কোয়ারফিটের ওপর যখনই বড় বিল্ডিং করার অনুমোদন দেওয়া হবে তার সঙ্গে ২০ শতাংশ জায়গায় চার্জিং ভেইকেল চার্জ দেবার জায়গা রাখারব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী দিনে বিল আনা হবে।
মেয়র হবার পর থেকেই কলকাতাকে পরিবেশবান্ধব করে তোলার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়রের পদে থাকাকালীন-ই তাঁকে দেখতে হয়েছে আমফানের ফলে কলকাতার বিধ্বংস ছবি। হিসেব বলছে আমফানের প্রভাবে শহরে ১৫ হাজার গাছ পড়ে গিয়েছিল। এরমধ্যে কিছু পুনঃস্থাপন করা হয়েছে, আর নতুন করে বসানো হয়েছে বৃহৎ কলকাতায় আরও ৫০ হাজার গাছ। চারা গাছ নয়, প্রতিটি গাছ ৩-৪ ফুট উঁচু। এর ফলে সেই গাছ বাঁচার সম্ভাবনা বেড়েছে। কিন্তু একাধিকবার ফিরহাদ হাকিম নানা অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, আমফানের ক্ষতি সামলানো এখনো সম্ভব হয়নি। গাছ বসানো, গাছ বাঁচানো ও সবুজের আধিক্য বৃদ্ধি করা এক নিরবিচ্ছিন্ন প্রকৃয়া। এর জন্য সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।