আমাকে কেউ আমেরিকার দালাল বলতে পারেন, তবুও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের ঐতিহ্য ও গণতন্ত্রের ওপর আস্থার কারণেই মার্কিন মুলুকে ভোট কারচুপি কম। বস্তুত তার কোন অবকাশই নেই। এই দুনিয়া কাঁপানো নির্বাচনেও এখনও পর্যন্ত দুটো ‘ভোটার ফ্রড’ এর খবর পাওয়া গেছে এখানে। এবারের এই নির্বাচনের রকমসকম দেখে ছেলেবেলার ভয় জাগানো তেল মাখানো বাঁশের অঙ্ক মনে পড়ে যাচ্ছে। একবার বাইডেন উঠছেন তো ট্রাম্প নামছেন। প্রতি মুহূর্তে ফুটবলের মত শ্বাসরোধকারী উত্তেজনা।
মজার ব্যাপার হল, ‘ভোটার ফ্রড’ এ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি ট্রাম্পের সমর্থক। আপনাদের মনে থাকতে পারে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প একটানা ভোট কারচুপি নিয়ে বিতর্ক তোলার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। উদ্দেশ্য ছিল ভোট ভেস্তে দেওয়া। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কয়েকটা কাউন্টিতে তিনি মোটেই সুবিধা করতে পারবেন না। বেশ কিছু কাউন্টিতে হারের আশঙ্কায় কেসও ঠুকে দিয়েছিলেন এই মামলাবাজ মানুষটি। কিন্তু তাতেও হালে পানি পাননি তিনি।
মানুষটা একেবারে মেগালোম্যানিয়াক, নিজেকে ছাড়া আর কিছু বোঝেন না। কথা নেই বার্তা নেই গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সমর্থকদের জড়ো করে ট্রাম্প ঘোষণা করে দিলেন, তিনিই বিজয়ী। এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এমন কাজ কোন কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ করতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস হয়না। যখনই তিনি তেল মাখা বাঁশের বাঁদরের মত বাইডেনের নিচে নেমে যাচ্ছেন তখনই তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা ‘চিটার’ ‘চিটার’ বলে আওয়াজ তুলছেন। আমার মনে পড়ে যাচ্ছে শরৎচন্দ্রের ‘রামের সুমতি’র নারায়ণীর কথা। ফেল্টু রামের পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে যিনি বলতেন, পোড়ার মুখো মাষ্টাররা ইচ্ছে করে রামকে ফেল করিয়ে দিচ্ছে। জিতলেই জনগণের রায় আর হারলেই চক্রান্ত! এ খেলা চলছে নিরন্তর!
ট্রাম্পের টুইটার বার্তাগুলিও অদ্ভুত! তিনি যেন এক কল্পলোকের বাসিন্দা! একসময় পেনিসিলভ্যানিয়াতে ৭৫,৪২৭ ভোটে তিনি এগিয়ে ছিলেন। এই লেখার সময়ে দেখা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই ওই রাজ্যের বড় একটা কাউন্টি পিটার্সবার্গের শহরতলিতে তার ভোট দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। পিটার্সবার্গ হয়ে উঠেছে একটা নির্ধারকশক্তি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই রাজ্যই ঠিক করে দিতে চলেছে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন কিনা?
হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক বৈঠকেও ট্রাম্প তার পক্ষে পড়া ‘লিগ্যাল’ ভোট এবং বিপক্ষে পড়া ‘ইললিগ্যাল’ ভোট নিয়ে একপ্রস্থ ঝগড়া বাঁধিয়েছেন। সবসময় তিনি যেন এক অকারণ উত্তেজনায় ফুটছেন। এর ঠিক আগে তিনি অ্যারিজোনায় গণনা কেন্দ্রের সামনে লোকজন জড়ো করে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছেন। সেখানে বাইডেন ৫০,৬৭১ ভোটে এগিয়ে গেছেন। পেনিসিলভ্যানিয়া আর জর্জিয়াতেও সমানভাবে পাল্লা দিচ্ছেন বাইডেন। জর্জিয়ার পার্থক্য মাত্র ৩০০০ভোটে।
জর্জিয়ার চূড়ান্ত ফল কিছুক্ষণের মধ্যে জানা যাবে। সেই ফল বিপুলভাবে বাইডেনের পক্ষে যাবে বলেই খবর। বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন নেভাদাতেও, ১১,৪৩৮ ভোটে। সব মিলিয়ে এখন বাইডেন ২৫৩ আর ট্রাম্প ২১৪। তবে নেভাদার ভোট গণনা কাল সকালের আগে হবেনা বলেই মনে হয়। ওভারসিজ এবং সেনাদের ভোট আসতে দেরি হচ্ছে।
গণতন্ত্রের উৎসবে সময় যত এগোচ্ছে ততই বাড়ছে বাইডেন সমর্থকদের উৎসাহ, মুষড়ে পড়ছে ট্রাম্প শিবির।