রাজ্য জুড়ে জেলা কৃষি আধিকারিকরা চাষিদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্কীকরণ করল। জেলাগুলিতে বিভিন্ন ফসলে চাষিরা যেভাবে কৃষিবিষ প্রয়োগ করছেন এবং দিনের দিন নকল কীটনাশক বাজারে ছেয়ে যাচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক। এবিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন জেলার কৃষি আধিকারিকরা।
প্রথমত, কৃষিভিত্তিক রাজ্যে চাষের জমিতে কৃষিবিষ প্রয়োগ নিত্যকার ঘটনা। কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মবিধি অধিকাংশ চাষি জানেন না। কিম্বা অনেকে জেনেও তা মানেন না। দোকান থেকে কীটনাশক এনে তাঁরা জমিতে প্রয়োগ করেন। অথচ কোন চাষে কোন কীটনাশক ও আয়তন অনুযায়ী কতটা পরিমাণ প্রয়োগ করতে হবে তা অনেক চাষিই জানেন না। আন্দাজ পরিমাণ ওষুধ প্রয়োগ করেন। তাছাড়া ওই কীটনাশক পরিবেশবান্ধব কীনা তাও তাঁদের জানা নেই। এর থেকে বড় কথা হল কীটনাশক প্রয়োগের সময় কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে তা বেশিরভাগ চাষির অজানা। অনেকে আবার জেনেও সতর্ক অবলম্বন করে না। মুশকিলটা এখানেই। এইসব কারণে চিন্তিত কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে চাষিদের সচেতনতা বাড়াতে জেলায় জেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের ব্যবস্থ করেছে জেলার কৃষি দফতরগুলি। হুগলি, হাওড়া, বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদীয়া ইত্যাদি জেলায় ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রশিক্ষণ। সবুজ বিপ্লব আনয়ন প্রকল্পে কৃষক প্রশিক্ষণ শিবিরে বিনামূল্যে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাবস, চশমা, লিভকালার চার্ট কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। জেলার কৃষি আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, কৃষকরা গতানুগতিক ভাবেই কোনও নিয়ম না মেনেই সাধারণভাবে জমিতে কৃষিবিষ প্রয়োগ করছেন। এরফলে দেখা যাচ্ছে অনেক চাষি অসুস্থ হচ্ছেন। এমনকী কঠিন চামড়ার রোগ ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। উদ্বেগের বিষয় হল দিনের দিন তা বেড়ে চলেছে। এছাড়া চরম ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। ইদানীং যেভাবে নকল কীটনাশক বাজারে আসছে তাতে চরমভাবে ক্ষতি হচ্ছে চাষিদের। ভয়ংকরভাবে দূষণ ছড়াচ্ছে। চাষিদের সজাগ থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সম্প্রতি যেভাবে নকল কীটনাশক বাজারে আসছে তাতে চাষিদের সমূহ বিপদ। এই কীটনাশক ফসলে কোনও কার্যকর হবে না। দ্বিতীয়ত, এই নকল কীটনাশক বিষ প্রয়োগ করতে গিয়ে মৃত্যুকে ডেকে আনছেন। কারণ এই ওষুধ প্রয়োগের সময় খুব সহজেই চাষিদের শরীরে পড়ে এবং নাকের মধ্য দিয়ে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। মনে রাখতে হবে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের আগে প্যাকেটের মধ্যে লিফলেটটি পড়ে সতর্ক অবস্থায় সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

এদিকে নকল কীটনাশক ছেয়ে যাচ্ছে বাজার। কৃষকদের সচেতন হতে বলছে কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে কৃষকের অজান্তেই চাষের কাজে নকল কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ছে। যার জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ুতে নষ্ট হয়ে গিয়েছে ৯ লক্ষ একর জমির লাল লঙ্কা। কর্ণাটকে নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে কীটনাশকের ৬০ শতাংশই নকল। রাজস্থান সরকারও জোর দিয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। কেন্দ্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে খাদ্যশস্যে নকল কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন ফসল নষ্ট হচ্ছে, তেমনি কুপ্রভাব পড়ছে শরীর-স্বাস্থে।
দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ইতিমধ্যে চাষে প্রায় ৩০ শতাংশ নকল কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা পড়েছে। কৃষিমন্ত্রক নড়েচড়ে বসেছে। জৈব তথা বায়ো পেস্টিসাইট ব্যবহারে জোর দিতে শুরু করেছে। এ রাজ্যের কৃষি দফতরগুলি ‘জাগো কিষাণ জাগো’ নামে বিশেষ সচেতনতা প্রচার কর্মসূচি নিয়েছে।