সড়ক পরিবহনের সঙ্গে সঙ্গে এবারে জল পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিপুল আধুনিকীকরণের সূচনা হতে চলেছে। এই শীতের মধ্যেই গঙ্গাবক্ষে সরকারিভাবে নামানো হচ্ছে ২২টি অত্যাধুনিক জলযান। যাতে জলে দূষণ না ছড়ায় সেজন্য এই জলযান গুলিতে থাকবে বায়ো টয়লেট। সমস্ত রকম বর্জ্য জমা হবে একটি চেম্বারে, ঘাটে এসে তা পরিষ্কার করা যাবে। তাছাড়া বিভিন্নভাবে এই জলযানগুলিকে সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।

৮০ ও ১০০ আসনের এই ভেসেল গুলি চলবে ত্রিবেণী থেকে নুরপুরের মধ্যে। এইসব এলাকার আঞ্চলিক সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে ভেসেল গুলির একেকটি নামকরণ করা হবে বলে জানা গেছে এবং তা করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট ভাবে আবেদন পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন করে নটি অত্যাধুনিক জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরানো জেটি গুলিরও আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। আপাতত গৌরহাটি, রাসমণি ঘাট, গাদিয়াড়া, আউট ট্রাম ঘাট, বাঁশবেড়িয়া, দেবিতলা ইত্যাদি জেটি গুলি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। আলো লাগানো হয়েছে, বসেছে স্মার্ট গেট, শৌচালয় বানানো হয়েছে।

পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে এক একটি ভেসেল কিনতে খরচ পড়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা করে। এই খাতে মোট ২০০ কোটি টাকার মত খরচ করা হবে। বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা থেকে এই প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে। জল পরিবহনের ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ বাড়লে সড়ক পথের উপর চাপ অনেকটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী দিনে জলপথে যাতে ই ভেসেল অর্থাৎ বৈদ্যুতিক জলযান চালু করা যায় সেদিকেও লক্ষ্য আছে রাজ্য সরকারের। সেক্ষেত্রে একেবারে দূষণমুক্ত যানবাহন দারুণভাবে পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠতে পারবে।