এক নজরে বাজেট
(১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার ২০২০-২০২১ অর্থবর্ষের জন্য ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাজ্য বাজেট পেশ হয়। বিগত বছরে অর্থমন্ত্রী ড. অমিত মিত্র ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। গতবারের তুলনায় এবারের বাজেট বরাদ্দ প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১১ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে নতুন বাজেটে। গরিব, প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের দিশা রয়েছে এই বাজেটে।)
আগামী দু- বছরের মধ্যে রাজ্যে তৈরি হতে চলেছে নতুন ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫০ কোটি টাকা।
আদিবাসীদের জন্য ঝাড়গ্রামে তৈরি হবে বিরসা মুণ্ডা বিশ্ববিদ্যালয়। তফশিলি জাতি অধ্যুষিত এলাকায় তৈরি হবে আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়।
রাজ্যের তফশিলি উপজাতিদের উন্নয়নে রাজ্য সরকার বরাদ্দ করলো ৯৩৫ কোটি টাকা।
বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থানের ওপর। বেকারদের জন্য ‘কর্মসাথী’ প্রকল্পের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে। এই প্রকল্পে প্রতি বছর ১ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তফশিলি জাতিভুক্ত বয়স্ক মানুষদের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। তাঁদের জন্য আসছে নতুন প্রকল্প ‘বন্ধু’। এই প্রকল্পে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে নাগরিকরা পাবেন বার্ধক্য ভাতা। তবে অন্য কোনও পেনশন প্রকল্পে নাম থাকলে এই সুযোগ পাওয়া যাবে না।
আদিবাসী ও তফসিলি উপজাতির বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য চালু হচ্ছে নতুন প্রকল্প ‘জয় জহর’। এই প্রকল্পে মাসে ১০০০ টাকা করে মিলবে ভাতা।
চা বাগানের গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার। নতুন এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘চা সুন্দরী’। চাবাগানগুলোতে কৃষি কর এবার থেকে লাগবে না।
রাজ্যের অসংগঠিত ক্ষেত্রের দেড় কোটি পরিবারকে বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রকল্প রয়েছে। বরাদ্দ হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।
গরিব, প্রান্তিক মানুষদের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ প্রকল্প। নাম ‘হাসির আলো’। ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। বরাদ্দ হয়েছে ২০০ কোটি টাকা।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে ‘বাংলাশ্রী’ প্রকল্প। বরাদ্দ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।
দিনের পর দিন মামলা জমে থেকে পাহাড় তৈরি হয়েছে। আর সেই জমে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের।
সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের উৎসাহ জোগাতে কলকাতা, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে ‘মাহাত্মা গান্ধী’, ‘জয় হিন্দ’ ও ‘আজাদ’ নামে ৩টি সিভিল সার্ভিস আকাডেমি তৈরি করা হবে। কর দানের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে। বকেয়া করের অনেকটাই আদায় করা গেছে।