জয়শ্রীরাম স্লোগানটা খারাপ একথাটা কে বলেছে? জয় শ্রীরাম বলাটা অন্যায় নয়। কিন্তু অনুষ্ঠান বিশেষে সেটার তারতম্য ঘটে। তুই মন্দিরে গিয়ে ওই শব্দটা গলা ফাটিয়ে বলনা, বলেও তো অনেকে, কেউ তোকে বারন করবে না। ধর আমি কারুর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে গেলাম সেখানে খোল-কর্তাল বাজিয়ে হরিনাম সংকীর্তন চলছে। আমি চেঁচিয়ে গান গেয়ে উঠলাম I am a disco dancer— সেটা কি শোভা দেবে?
টকাদার কথায় সুমনরা হো হো করে হেসে উঠলো।
হাসলি যে!
তুমি বেশ ভালো ব্যাখ্যা করলে।
শোন মোদী-শাহ এখন শয়নে-স্বপনে বাংলা দখল করার স্বপ্ন দেখছে। বাংলা কথা বলার চেষ্টা করছে, বাংলার আদব-কায়দা বোঝার চেষ্টা করছে। আরোও কত কাঠখড় পোড়াচ্ছে। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতে হবে বাংলার সংস্কৃতিকে ছুঁতে গেলে তোমাকে প্রথমে মনে প্রাণে বাঙালি হতে হবে। না হলে ওই ধরি জল না ছুঁই পানি। এই তো কয়েকদিন আগে এসে ভিক্টোরিয়ায় বাংলা বললো—‘নেতাজিনে কাহাঁথা পুরুষ অর্থ এবম উপক্যারন নিজেরায় বিজয়বাঁ স্বাধীন্তা আনতে পারে না আমাদের আবশই সেই উদ্বেষছকিৎ থাকতে হোবে যা আমাদের সহসিক কাজ এবম ভির তপুরণো আর শশ্বানে উদবুধ কোরবে’—এটা কোন রাজ্যের ভাষা! বাংলা ভাষার পুরো তুষ্টি করে ছেড়ে দিয়েছে। শোরগোল পরে গেল। মিডিয়ার কেউ কেউ বাঁ দিক ডান দিক তাকিয়ে মুচকি হাসলো। কেউ কেউ আবার বলেই ফেললো ফানি ল্যাঙ্গুয়েজ।
সে যাক আমলারা কিন্তু মোদীবাবুকে নিয়ে হোমওয়ার্কে একটু জোড় দিলো। স্যার আগের বাংলাটা একটু সমস্যা হয়েছিল এবার আপনি একটু চেষ্টা করলেই পুরোপুরি সফলতা অর্জন করবেন। শুরু হল প্র্যাকটিশ। এবার মোদীবাবু হলদিয়ায় সভা করতে এসে বাংলায় বক্তৃতা শুরু করলেন। ‘আমার প্রিয় মা, বোন ভাই ও বন্ধুরা। মেদিনীপুরের এই পবিত্র মাটিতে আসতে পেরে আজ আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই মাটি শহিদ মা মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি, বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর রক্তে রক্তিম হয়েছে এই ভূমি। এই মাটির বীর সন্তান বিদ্যাসাগর মহাশয় বাঙালিকে বর্ণ পরিচয় দিয়েছেন। সতীশ চন্দ্র সামন্তের হাত ধরে তৈরি হয়েছে হলদিয়া বন্দর। মেদিনীপুরের মাটির গুণে আমি মুগ্ধ।’ তারপরেই দম বন্ধ হয়ে গেল হিন্দিতে ফিরে গেলেন। তবে হ্যাঁ হিন্দীর সুগন্ধি থাকলেও বাংলাটা গত বারের থেকে কিছুটা শুদ্ধ বলার চেষ্টা করেছেন। বুড়ো বয়সেও কি পরিশ্রম করতে হচ্ছে বলতো। ওনার আগে যত জন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তাঁরা ইলেকশন এলে এত খাটাখাটনি করতেন? না।
সুমনরা চুপচাপ টাকাদার মুখের দিকে তাকিয়ে।
বাংলার সাধারণ মানুষ দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ থেকে আমদানি করা অনেক বিজেপি নেতা দেখেছেন। তেমনি উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং। এখন আবার তিনি উত্তরপ্রদেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী। তিনি তো প্রায়ই বলতেন ভাগ মুকুল ভাগ। মুকুল দল ছাড়ার দিন অবশ্য তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে দলত্যাগের হিড়িক পড়বে এটা প্রত্যাশিত হলেও মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেবেন— এমন কোনও প্রস্তাব ছিল বলে তার জানা নেই। ঢোক গিললেও বাস্তবে যে ঘটে গেছে।
মুকুল দল ছাড়লেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৭ তৃণমূলের জন্মলগ্নে আমি ছিলাম প্রথম স্বাক্ষরকারী। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মুকুল ঝড়ে গেল।
মুকুল যখন দল ছেড়েছিল তখন উনি কিন্তু দলের সেকেন্ড ইন চিফ—কি হলো—তৃণমূল দলটা উঠে গেছে? শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব ব্যানার্জি গেল, সকলে রে রে করে উঠলো, বললো— তৃণমূল পুরো ফিনিশ। ও-মা যেই প্রর্থীপদ ঘোষণা হলো, তৃণমূলের প্রায় ১১৬ জন নির্বাচিত বিধায়ক বাদ পরে গেল। তারমানে এরাই পা বাড়িয়েছিল বিজেপির দিকে। দিদিমনি সেটা কিন্তু ধরতে পেরেছিলেন। তাই শুভেন্দুরা চেঁচাচ্ছিল। ফল কি হলো? এরা যখন বিজেপিতে লাইন দিলো কারুর ভাগ্যে সিকে ছিড়লো কারুর ভাগ্যে জুটলো লবডঙ্কা। মাথায় রাখবি এই না ঘরকা না ঘাটকা নেতাদের রাজনৈতিক জীবনটা কমা, সেমিকোলন নয় পুরো দাঁড়ি পরে গেল। শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব ব্যানার্জিরও হাল সেই পথে এগোচ্ছে। শিশিরবাবুতো আক্ষেপ করে বলেই ফেলেছেন মমতার নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোটা অধিকারী ফ্যামিলিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য, বলতে পারছেন না শুভেন্দু হেরে যাওয়া মানে শুধু শুভেন্দু নন, গোটা অধিকারী ফ্যামিলিরই রাজনৈতিক কেরিয়ারে পেরেক পোঁতা হয়ে যাবে। শোন বলে রাখছি এই ইলেকশনে বহু রাজনীতিবিদের জীবনে ইতি পরে যাবে তারা আর কোনওদিন রাজনীতিই করবে না।
শেষে বলি ভাড়াটে সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না। সিপিএম থেকে তৃণমূলে গেছিল ভাড়াটে বাহিনী আবার তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গেছে ভাড়াটে বাহিনী। একটা কথা মাথায় রাখবি তৃণমূল কিন্তু ভাড়াটে বাহিনী নিয়ে জেতে নি। কিন্তু জিতে আসার পর অনেকে অন্যান্য পার্টি থেকে তৃণমূলে এসেছিল, সেটাও কিন্তু করেছিল এই মুকুল রায়। সে এখন কোথায়? বিজেপিতে। রাজনীতিবিদদের মধ্যে কে এমন মহাপুরুষ আছে যে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে, আমি দুর্নীতিগ্রস্ত নই, আমি একেবারে সৎ। নেই। কে বলতে পারবে পার্টি উইথ দ্যা ডিফারেন্সের তত্ত্বে বিশ্বস করি না। বাজপেয়ি তো মোদীকে বলেছিলেন রাজধর্ম পালন করতে। করছেন কি?