চতুর্থ দফায় প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি কোভিডের হানা প্রবল হয়ে উঠেছে এ রাজ্যে। বাকি ৪ দফার মধ্যে শনিবার পঞ্চম দফা। বাংলায় বিধানসভা ভোটের তাপ এখন কার্যত গনগণে আঁচ। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি জেলার মোট ৪৫ আসনে ভোট পর্ব।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রচার পর্ব। ভোট গ্রহণ হবে উত্তর ২৪ পরগনার ১১১ থেকে ১২৬ বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬ টি আসনে। নদিয়ারর বিধানসভা কেন্দ্র ৮৬ থেকে ৯৩-এর ৮ টি কেন্দ্রে। পূর্ব বর্ধমানের ৮ আসন, কালিম্পংয়ের ১ টি আসন, জলপাইগুড়ি জেলার ১৫ থেকে ২১ আসনে।
এর মধ্যে উত্তর বাংলার ময়নাগুড়ি (এসসি), জলপাইগুড়ি (এসসি), রাজগঞ্জ (এসসি), ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাল (এসটি), নাগরাকাটা (এসটি), কালিম্পং, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি (এসসি), শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া (এসটি), দক্ষিণবঙ্গের শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), চাকদহ, কল্যাণী (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), বর্ধমান দক্ষিণ, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, কালনা (এসসি), মেমারি, বর্ধমান উত্তর (এসসি)। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি) যেমন হাইভল্টেজ ভোট যুদ্ধ বলে নজরে রয়েছে পাশাপাশি মদন মিত্র বনাম রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়দের লড়াই, দমদম থেকে বিধান নগরের স্টার ফাইট ঘিরেও পারদ চড়তে পারে ভোটের বাংলায়।
উল্লেখ্য; শনিবারের ৪৫টি কেন্দ্রের অধিকাংশতেই ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে বিজেপি এগিয়ে ছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই কেন্দ্রগুলিতে গড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। তৃণমূলের ৪১.৫ শতাংশের তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তবে আসন দখলের ক্ষেত্রে উভয় নেতৃত্বই সমান সমান আসন দখল করেছিল প্রায়।
হিসেব বলছে তৃণমূল ২৩ ও বিজেপি ২২টি আসনে এগিয়ে ছিল। তাই একুশের বিধানসভা ভোটের পঞ্চম দফা অনেকটাই নবান্ন দখলের লড়াইতে রীতিমত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০১৬ নির্বাচন এই কেন্দ্র গুলির মধ্যে থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ৩১টি আসনে জয়ী হয়েছিল। সেই তুলনায় অনেকটাই পিছনে ছিল বাম ও কংগ্রেস। গত বিধানসভা এমনকি লোকসভার নিরিখেও যদি পঞ্চম দফায় অধিকাংশ আসন তৃণমূল ধরে রাখতে পারে তাহলে নবান্ন দখলের লড়ইয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ঘাসফুল।
উত্তর চব্বিশ পরগনায় এবার দু’দফায় ভোট। শনিবার পঞ্চম দফায় দমদম, ব্যারাকপুর ও বারাসত লোকসভার অন্তর্গত ১৬টি আসনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। ষষ্ঠ দফায় ভোট হবে জেলার বাকি ১৭টি আসনে। ২০১১-র পরিবর্তনের নির্বাচনেও লাল সাম্রাজ্য উত্তর চব্বিশ পরগনা জুড়ে ঘাসফুল ফুটেছিল। এই জেলার ২৯টি আসনই দখল করেছিল তৃণমূল। বাকি ৪টি আসনে টিমটিম করে জ্বলেছিল বামেরা। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে এ জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে ২৭টিতেই ঘাসফুল ফুটেছিল। ৩টি গিয়েছিল বামেদের দখলে আর ৩টি পেয়েছিল কংগ্রেস। ঝুলি খালি থেকেছিল বিজেপির।
অর্থাৎ গত দুটি বিধানসভার ভোট পরিসংখ্যানের নিরিখে উত্তর চব্বিশ পরগনাকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলা যায়। তবে এবারের লড়াই একপেশে না হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে বলাই যায় যে গেরুয়া হাওয়া একেবারে উবে গিয়েছে। তা না হলে এ জেলার ভোট নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর চিন্তা ছিল। কারণ; কলকাতার প্রতিবেশী উত্তর চব্বিশ পরগনায় গত লোকসভাতে ঘাসফুলের আধিপত্য বজায় থাকলেও বিজেপির ভোট বাড়েছিল।
দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র একটা সময় পর্যন্ত অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগের দখলে ছিল। ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে দার্জিলিং বিধানসভায় জিতেছিল সিপিএম। তারপরে ২০১১ সাল পর্যন্ত আধিপত্য ছিল জিএনএলএফের। ২০১১ ও ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জেতে জিজেএম। ২০১১ সালে কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছিল তৃণমূল, ২০১৬ সালে একাই ভোটে লড়ে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিল। ২০১৯-এর লোকসভা ও বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল। রাজ্যের শাসকদল দার্জিলিং জেলার তিনটি আসনেই প্রার্থী দেয়নি। আসনগুলি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে ছেড়ে দিয়েছেন মমতা। কিন্তু বিনয় তামাং এবং বিমল গুরুংয়ের গোষ্ঠীকোন্দল না মেটায় দুই পক্ষই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে গত লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত গুরুংপন্থী জিজেএম বিজেপিকে সমর্থন করলেও এবার শুধুমাত্র জিএনএলএফের সমর্থনে ভোটে লড়ছে বিজেপি। তবে এবার গেরুয়া শিবিরের অবস্থা অনেকটাই অনিশ্চিত।
শনিবারের ভোট পর্বে উল্লেখ্যযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মদন মিত্র, ব্রাত্য বসু, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রাহুল সিনহা, গৌতম দেব, অদিতি মুন্সি, শমীক ভট্টচার্য, সব্যসাচী চক্রবর্তী, পার্নো মিত্র, তাপস রায়, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নদীপ মিত্র, অশোক ভট্টাচার্য, সুজিত বসু প্রমুখ।
পঞ্চম দফায় তৃণমূল যদি তাদের আগের আসন ধরে রাখতে পারে তাহলে নবান্ন দখলের লড়ইয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে
এটা না হয় মানা গেল, কিন্তু ধরে রাখবে কি দিয়ে? বাংলার মানুষ কি সব ভুলে গিয়েছে বলতে চান। আর সম্ভব নয়, মিলিয়ে
নেবেন।
আপনার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ যত সহজ ক্ষমতা দখল তত সহজ কি? মনে হয় না, তবে আপনার লেখা খুব সুন্দর।
মতামতের পক্ষে যথেষ্ট ব্যাখ্যা রাখার চেষ্টা করেছেন, তবে অপেক্ষা করতে হবে, মনে হয় একটু অন্যরকম ফলাফল হতে
পারে।