শনিবার চতুর্থ দফার ভোট দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের ৪৪টি আসনে। জলপাইগুড়ির পাঁচটি এবং কোচবিহারের নয়টি আসন বাদেও দক্ষিণবঙ্গের হাওড়ার নটি বিধানসভা, হুগলির দশটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার এগারোটি বিধানসভা পড়ছে। উল্লেখ্য; এই দফায় উত্তরবঙ্গের বিধানসভার আসনগুলিতে প্রথমবার ভোট। ভোট বিশেষজ্ঞদের আলোচনা অনুযায়ী; পাঁচটি জেলার বেশ কিছু আসনে মহিলা ভোটদাতারা নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। এই রাজ্যে এবার ৪৯.০১ শতাংশ মহিলা ভোটার। এই শতাংশের নিরিখে বাংলার মহিলা ভোটারের সংখ্যা গোটা দেশে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।
নতুন সংশোধিত ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৮০ জন। এর আগের ভোটার তালিকায় সংখ্যাটা ছিল ৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩০৮ জন। তার মানে প্রায় ২০ লাখ ভোটার বেড়েছে নতুন তালিকায়। কমিশনের প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩০৬ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৫৯ লাখ ২৭ হাজার ৮৪ জন।
হিসাবে এও দেখা যাচ্ছে, শনিবার যে ৪৪ টি কেন্দ্রে ভোট সেগুলিতে ১ কোটি ১৫ লক্ষের বেশি ভোটদাতা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১১ টি আসনে পুরুষ ভোটারদের সংখ্যা ১৫,৬৬,১৬১ জন। মহিলা ভোটারদের সংখ্যা ১৫,৭০,৩৯২ জন।
প্রসঙ্গত; আটের দশক থেকেই এ রাজ্যে মেয়েদের ভোট দেওয়ার প্রবণতা ক্রমাগত বাড়ছে। ১৯৮০ পরবর্তী কয়েক বছরেই মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে এই বাংলায় মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল ৮২ শতাংশ। ২০১১ সালে এ রাজ্যে পরিবর্তনের ভোটে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল পুরুষদের থেকেও বেশি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সেই প্রবণতা বজায় ছিল।
চতুর্থ দফায় (শনিবার) ভোট গ্রহণ দক্ষিণ ২৪ পরগণার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলিতে মোট মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৭০ হাজার ৩৯২। এবং পুরুষ ভোটদাতার সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৬১ জন। এর মধ্যে আবার সোনারপুর উত্তর, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিমে পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা বেশি বলে জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সূত্র অনুযায়ী যাদবপুরে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৩৯ জন। পাশাপাশি ওই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৪৪ হাজারের কিছু বেশি। এর থেকে বেশি রয়েছে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৫০২, পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৫৫ জন।
টালিগঞ্জে মহিলা ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার এবং ১ লক্ষ ৩১ হাজারের মতো। বেহালা পূর্ব বিধানসভা এলাকাতেও মহিলা ভোটাররা সংখ্যাগুরু। এখানে মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৫৬ হাজারের বেশি। ওই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৫১ হাজার।
সোনারপুর দক্ষিণে মহিলা ও পুরুষ ভোটারদের সংখ্যা যথাক্রমে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ও ১ লক্ষ ৪২ হাজারের বেশি। পাশের কেন্দ্র সোনারপুর উত্তরে মহিলা ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যাতেও সামান্য হলেও মহিলারা এগিয়ে। এখানে মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৪৩২ ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৩০। জেলার বাকি পাঁচটা বিধানসভায় অবশ্য মহিলা ভোটদাতার তুলনায় পুরষ ভোটদাতার সংখ্যা বেশি।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এবার কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৬ জন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ৮১৭ জন। তার মানে কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রেও পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন।
অন্যদিকে মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৩৫৮ জন। এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫৯ জন। এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ জন।
চতুর্থ দফায় মোট প্রার্থী হয়েছেন ৩৪৫ জন। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থী ৪০ জন। মোট ১ কোটি ৮ লক্ষ ভোটার চতুর্থ দফায় ভোট দেবেন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৫২ লক্ষ ২৪ হাজার জন।
তথ্যগুলি কাজে লাগবে। ভাল লেখা তো বটেই।
লেখাটিতে যেমন কয়েকটি জরুরী তথ্য আছে তেমনি প্রাসঙ্গিক লেখা।
মহিলা ভোটদাতারা যতই নির্ণায়ক ভূমিকায় আসুক না কেন তাদের দুর্দশা সহজে ঘোচার নয়। ভোটের বাজারে বিশেষঙ্গরা
অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেন সেগুলো সাময়িক। তবে লেখাটার ওজন আছে।