একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলা দখল করতে মরিয়া বিজেপি। এর জন্য তারা ভোটের অনেক আগেই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে। মোদী, শাহ, নড্ডা থেকে শুরু করে বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা ভোটের প্রচারে ঘনঘন বাংলায় যাতায়াত করছেন। মোদী ব্রিগেডে একদফা প্রচার সেরেও গিয়েছেন। ১৮-র পর ফের ২০ মার্চ রাজ্যে ভোট প্রচার আসছেন। বাংলা জয়ের ব্যাপারে মোদী-সহ বিজেপি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। গেরুয়া শিবির একরকম নিশ্চিত যে তারা বাংলা দখল করে ফেলেছেন।
কিন্তু বিজেপির বাংলা দখলের হাঁকডাকই তো সার, কার্যত বুথস্তরে বিজেপির লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাজ্য বিধানসভায় এবার সর্বমোট ১ লক্ষ ১ হাজার ৯১৬টি বুথ। অর্থাৎ গত লোকসভার থেকেও ৩১ শতাংশ বেশি। বুথ প্রতি দু’জন করে ধরলেও ২ লক্ষ ৪ হাজারের বেশি কর্মীর দরকার। বিজেপির কি সেই লোকবল আছে? বাংলা দখলে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হলেও তাদের সংগঠন কি ততটা মজবুত? গত লোকসভায় বিধানগর কেন্দ্রের ২৬০টি বুথের মধ্যে বিজেপি মাত্র ৬টি বুথে লোক দিতে পেরেছিল, এবার সেখানে বুথের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বাংলায় অবস্থা সামাল দিতে বিজেপি ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে পার্টিকর্মীদের জন্য ২৫ দফা নির্দেশিকা জারি করে। অমিত শাহ বঙ্গ বিজেপিকে ২০০টিরও বেশি বিধানসভা আসনের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু পদ্মশিবিরের অন্দরের খবর, বাংলা দখলের স্বপ্ন হাসিল করতে বিজেপি বুথস্তরের সংগঠন শক্তিশালী করতেই হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতি যা; তাতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষে বুথ সচল রাখাটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।
এতদিন পদ্মশিবির কেবল গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ভাল ফল করার হিসেব কষেছেন। হ্যাঁ সেটা তো একটা বড় ঘটনা, কিন্তু স্রেফ ২০১৯-এর অনেক আসনে জেতা মানেই কি বাংলা জয়ের অর্ধেক পথ পেরিয়ে আসা।২০১৯-এর লোকসভায় বাম ও কংগ্রেসের অধিকাংশ ভোট সুইং করেছিল, এবারও পদ্মশিবির সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন? তাহলে বিজেপিতে বুথে দেওয়ার মতো লোক নেই কেন? ঘটনা হল রাজ্যে এমন অনেক বুথ রয়েছে, যেখানে পদ্মসংগঠন একেবারেই দুর্বল। সেই কারণেই বিজেপিকে ভোটের আগে নির্দেশিকা জারি, বুথভিত্তিক একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হচ্ছে।
বাংলা দখলের জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্বকে ১৭১ জন প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে কেন মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। যিনি বাংলায় ২০০টিরও বেশি আসনের টার্গেট দেন সেই অমিত শাহের সফরেই প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে গেরুয়া শিবিরে বস্তুত ধুন্দুমার বেঁধে গেল! কলকাতার নির্বাচনী কার্যালয়ে দলীয় কর্মীরা যেমন তুমুল বিক্ষোভ দেখাল, ভাঙচুর হল হুগলির চুঁচুড়ায় জেলা সাংগঠনিক অফিস। এখনও তো আসল ভোটের লড়াই শুরুই হয়নি তার আগেই নিজেদের ঘরের ঝামেলা রাস্তায় নামিয়ে এনে বঙ্গ বিজেপি প্রেস্টিজ বেশ বড়সড় ধাক্কা খেল।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এখনও সব আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি, তবে বহু কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা মাত্র দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ বিক্ষোভ এমন আকার ধারণ করল যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব পড়ে গেল মহা উদ্বেগে। এখনই যদি এই অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাহলে বাকি আসনগুলিতে প্রার্থী ঘোষণার পর কী হবে? একেই প্রার্থী বাছতে গিয়ে কপালে হাত ঠেকছে, এরপর পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন চরম উদ্বেগে রয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।
তৃতীয় ও চতুর্থ দফা ভোটের বেশ কিছু কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের মাত্রাছাড়া ক্ষোভের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়রা। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা বিজেপির সংগঠনকে দাঁড় করিয়েছেন, সেই আদি নেতারা তালিকায় নেই। রায়দিঘি কেন্দ্রের প্রার্থী বদলের দাবিতেও ফের বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে হাওড়া থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে রন্তিদেব সেনগুপ্তের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তার অনুমতি ছাড়াই, ক্ষুব্ধ রন্তিদেব লোকসভায় পরাস্ত হয়েছিলেন, এবার তিনি এই ঘটনার পর প্রার্থী হতেই অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গী কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে শিখা মিত্রের নাম ঘোষণা করা হয়, অথচ এখনও পর্যন্ত তার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগই নেই।এরপর কি বুঝে নিতে হবে ‘বিজেপিতে লোকের অভাব ঘটেছে?’ নেতারাও বুঝতে পারছেন না; নেতারাও বুঝতে পারছেন না তাঁরা প্রচারে সময় দেবে না ড্যামেজ কন্ট্রোলে।
ভোটের আগে শুভেন্দু থেকে রাজীব-সহ তৃণমূলের তাবড় নেতা বিজেপিতে প্রবেশ করে সংগঠনের হাত নাকি মজবুত করেছে, কিন্তু যে ঝাড়গ্রাম লোকসভা ভোটে বিজেপি বিপুল ভোটে জিতেছিল; ঘুম ছুটেছে সেখানে অমিত শাহের সভায় লোক না হওয়ায়। সার্কাস ময়দানের অবস্থা দেখেও সভা বাতিল করতে হয়েছে শেষমুহূর্তে। গত দিনের পর বৃহস্পতিবারও নন্দীগ্রামে ভূমিপুত্র শুভেন্দুকে ঝাঁটা হাতে তাড়া করে মহিলারা। এরপরও গেরুয়াশিবির বঙ্গে পদ্ম ফোটানোর স্বপ্নে বিভোর থাকতেই পারে কিন্তু তাঁরা এখনো পর্যন্ত এ রাজ্যে কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি। বাংলায় বিজেপি-র প্রচারের মুখও সেই মোদী। তাঁকে সামনে রেখেই গেরুয়া শিবিরের ভোট লড়াই। আট দফার ভোটে তিনিই বারবার আসছেন যাচ্ছেন, প্রচার করছেন, একমাত্র তাঁর ভরসাতেই বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি। অথচ লোকসভা ভোটের আগে পরে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ায় যে শাহের সভায় হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করতেন, সেই ছবির বদলে জেলায়-জেলায় পদ্মশিবিরের অন্তর্কলহের ছবি এখন স্পষ্ট। ভোটের আগে এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ বঙ্গ বিজেপি।
লেখকের বক্তব্যের সঙ্গে ১০০ ভাগ সহমত পোষন করছি। লেখাটিতে স্পষ্টভাবেই তুলে ধরা হয়েছে একটা জাতীয় দল
আপাদমস্তক অন্তঃসারশূন্য, স্রেফ নিজেদের মোটা মাথাগুলোকে হাতুড়ির বাড়ি মেরে ঠং ঠং আওয়াজ তুলছে, কাল ফেটে
গিয়ে খটখট আওয়াজ উঠবে।
দল্টা জন্মলগ্ন থেকে নষ্ট ভ্রষ্ট…শুধু অনিষ্ট আর অনিষ্ট করাই লক্ষ্য, এই দলকে কোনও লড়াইতে হারাতে হয় না, এই দল
লড়াই শুরুর আগেই গো-হারান হেরে যায়, এবার ধুলোয় মিশে যাবে, মানুষ সেই ধুলোর ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে- এটাই তো
ঐতিহাসিক সত্য।
লেখক যা বলছেন তা পরিসংখ্যান দিয়ে, কিন্তু সেটাই শেষ সত্য নয়, ইতিহাসে যে কত কি ঘটেছে আর ঘটবে তা পরিসংখ্যান বলবে না, মানুষ জবাব দেবে, তাই আর একটু অপেক্ষা করাই ভাল, আগে থেকে এত বেশি লাফালাফি করে ঠ্যাং না ভেঙে পরিবর্তীত সময়ে সুস্থ্য স্বাভাবিক ভাবে চলা ফেরার জন্য দেখতে থাকুন আসলে কি ঘটে, আপনার লেখা ভাল, আপনি রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বেশ সক্ষম, ধন্যবাদ।
দুটি দুর্ঘটনা আর তিনটি পুরনো পরিসংখ্যান দিয়ে কি একটি সর্বভারতীয় দলের ক্ষমতা বা শক্তি বিচার করা যায়, নাকি
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে সে নিশ্চিতভাবে হারছে সে কথা বলে দেওয়া যায়? এটা তো কোনও দলের হয়ে প্রচারের কাজের
চেয়েও বেশি কাজ করে ফেলা। লেখাটা তাই অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান শেষ সত্য কেউ সেকথা বলেনি, তবে সমাজ বা রাজনীতি বিশ্লেষণ করতে পরিসংখ্যান দরকার হয়।
মানুষই যে জবাব দেয় সে কথাও ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু ঠ্যাং ভাঙা ইত্যাদি কথাগুলি সমাজ-ইতিহাস ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের
ভাষা নয়। রাজনীতির ব্যাখ্যা রাজনৈতিক ভাষা দিয়ে করতে হবে, অন্য ভাষা হলে তা কি প্রাসঙ্গিক হবে?
দুটি দুর্ঘটনা আর তিনটি পুরনো পরিসংখ্যান দিয়ে একটি সর্বভারতীয় দলের ক্ষমতা বা শক্তি বিচার করা যে যায় না সে কথা
ঠিক, তবে একটি সর্বভারতীয় দল যদি ২৯৪টি আসনের প্রার্থী খুঁজে না পায়, বুথে কর্মী দেওয়ার লোক যোগার করতে না পারে, সমাবেশে লোক হবে না বুঝে শেষ মুহুর্তে সভা বাতিল করে তাহলে সেই দলকে কি বলা হবে?