অনেকেই ভাবছেন এক পায়ে তিনি কি আর আগের মতো ছুটতে পারবেন। কেউ কেউ বলতে আরম্ভ করেছিলেন, খেলা শুরুর আগেই ক্যাপ্টেন মাঠের বাইরে চলে গেলেন। কিন্তু সব ভাবনাকেই তিনি মিথ্যা প্রমাণ করে ছাড়ছেন।
তাঁর রাজনৈতিক সফরে আহত হওয়ার ঘটনা তো এই প্রথম নয়। একাধিকবার তিনি হামলায় আহত হয়েছেন। রক্ত ঝরেছে। কিন্তু দমে যাননি। ভোটেও লড়েছেন শরীরে আঘাত নিয়ে।
চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের গোড়ায় যাদবপুরে সিপিএমের হেভিওয়েট সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়েও ’৮৯-ত তাঁকে হারতে হয়েছিল। তিনিই আবার হোম কনস্টিটুয়েন্সি দক্ষিণ কলকাতার প্রার্থী হিসাবে ধারাবাহিক জয়ের ইতিহাস গড়েছেন। বহু লড়াইয়ের পর চৌত্রিশ বছরের বাম অপশাসনের অবসানের প্রধান নেত্রী হয়েছেন অগ্নিকন্যা থেকে জননেত্রী।
টানা ছ’বারের সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। সরকার বা বিরোধী পক্ষে থেকেও বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তার মধ্যে বাংলার স্বার্থ আর সিপিএমের তীব্র বিরোধিতা— এই দুই বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি দিল্লির দরবারে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নিজের নীতি-বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আপসহীন লড়াইতে কখনও সুসময়, কখনও দুঃসময় এসেছে কিন্তু অদম্য জেদে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
রাজীব গান্ধির স্নেহধন্যা হয়েও সিপিএম বিরোধিতার লাইন ধরে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসে গড়ে একা সাংসদ হয়েছেন। লোকসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন নিজের জেদে, কিন্তু লড়াই থেকে সরে আসেননি। রাজ্যে পালাবদলের চূড়ান্ত লড়াই যখন প্রায় এবার না হলে নেভার তখন পেয়েছেন সাফল্য।
তারপর থেকে দিন যত এগিয়েছে, ততই বৃদ্ধি পেয়েছে তাঁর ক্যারিশমা। রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে লাখো মানুষকে পেয়েছেন পাশে। হত দরিদ্র-অবহেলিত মানুষও তার সামনে এগিয়ে এসেছেন। শুধু মাত্র তাঁর কারণেই তৃণমূল দলের জনসমর্থন মধ্যবিত্তের অন্দরমহল থেকে ক্রীড়াজগৎ হয়ে টলি পাড়ায় পৌঁছে গিয়েছে৷
পরিস্থিতি এখন অনেক পাল্টেছে৷ সময়ের এতটাই বদল হয়েছে যে নিজের গড় ভবানীপুর ছেড়ে যেতে হয়েছে নন্দীগ্রামে। এই নন্দীগ্রাম তাঁকে অগ্নিকন্যা বানিয়েছে; সেখান থেকে নতুন লড়াই শুরু করতে হয়েছে। হয়ত লম্বা রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার এত বড় চ্যালেঞ্জের সামনে তিনি৷ কারণ গেরুয়া ব্রিগেডের চোরা স্রোতকে আটকাতে হবে, তারা বাংলার মাটিতে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে মরীয়া।
২০১৯-এর ৪২টি লোকসভা আসনের ২২টিতে জিতেছিল তৃণমূল, ১৮টিতে বিজেপি। কিন্তু বিজেপি–র থেকে তৃণমূল ভোট পেয়েছিল তিন শতাংশ বেশি। ২০১৯-এ ১৬৪টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ১২১টিতে বিজেপি। এই ভোটের হার বাড়াতে হবে তৃণমূলকে। কাজটা সহজ না হলেও খুব কঠিন নয়।
গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের আট জেলায় চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল তৃণমূলকে। এবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান মমতার পাশে। আশা দার্জিলিংয়ে ভালোই ফল করবে তৃণমূল। উত্তরবঙ্গ মানেই চা বাগান। সকলেরই নজর চা শ্রমিকদের ভোটবাক্সের দিকে।
উত্তরে তৃণমূল ৬৩ শতাংশ প্রার্থী বদল ছাড়াও রাজ্য বাজেটে সরকার চা-বাগানের উন্নতিতে ১৫০ কোটি টাকা, চা সুন্দরী প্রকল্পে গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে৷ ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারের আটটি চা বাগান খোলার ব্যবস্থা করেছেন, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়িয়েছেন। শ্রমিকরা দৈনিক মজুরিতে অন্তর্বর্তীকালীন ১৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন। ওই একই সুবিধা পাবেন স্টাফরাও।
গত লোকসভা ভোটে এই চা বলয়ে একচেটিয়া জয় পেয়েছিল বিজেপি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বাংলার ৭টি চা বাগান অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কার্যকর না হওয়ায় চা শ্রমিকদের ক্ষোভ পড়বে ভোটবাক্সে। অন্যদিকে রাজ্য শ্রম দফতরের পদক্ষেপে উপকৃত হবেন পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক চা শ্রমিক। সঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি স্টাফ। উত্তরে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ধাক্কায় লোকসভার গেরুয়া হাওয়া উধাও! অন্য সব জায়গার মতোই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে দলের অন্দরের কলহ প্রতিদিন যেভাবে মাত্রা ছাড়াচ্ছে তাতে প্রার্থীর নাম নিশ্চিত করা ও বুথে লোক দেওয়া নিয়ে মহা চিন্তায় পড়েছে বিজেপি।
কেবল উত্তরবঙ্গ নয় উত্তর ২৪ পরগণায় মতুয়ারাও নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপি–র বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। সেখানেও তৃণমূলের জয়ের সম্ভবনা প্রবল হয়ে উঠছে। যেমন চা বলয় তেমনি গ্রামের গরিব মানুষ সহ সকলের মনে ভরসা জোগাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর দুয়ারে সরকার, স্বাস্থ্যসাথী ও বিনামূল্যে রেশনের চাল। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাস, পেট্রল, ডিজেল ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষকে যেভাবে বিজেপি বিরোধী করে তুলেছে তাতে মমতা ভোটের আগেই বিজেপিকে অর্ধেক পরাস্ত করে ফেলেছেন হুইল চেয়ারে বসে।
বিজেপির বাংলা নেতৃত্ব এখনও নাবালকই রয়ে গিয়েছে। দিল্লি থেকে নেতা না এলে যারা নিজে থেকে হাঁটতে পারে না
তারা করবে বাংলা শাসন ? যারা বাংলায় প্রার্থী খুঁজে পায়না, তাঁরা বুথ কর্মী কোথায় পাবে? সবে স্বপ্ন দেখার শুরু, আরও
কিছুকাল সবপ্ন দেখতে হবে, তবে বাংলা ছেড়ে পালানোর স্বপ্ন।
আজান আর শঙ্খধবনিকে যারা আলাদা করে দেওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখেন, তা্দের দেশে কোনও সূর্যই নেই তো, তাদের
আবার সূর্যোদয় সূর্যাস্ত কি? তারা এমনিতেই মানুষের পায়ের নীচে পীষ্ঠ, মুখ তোলার চেষ্টা করছে।
পক্ষ নিয়ে লেখা হলেও ভাল লেখা, পক্ষে যেসব যুক্তি আছে তা যথেষ্ট, উলটো দিক নিয়ে তো বলার কিছু নেই,
তবে লেখকের যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ থাকাই ভাল। আরও কিছু ধারালো লেখা যদি লেখক উপহার দেন তো ভাল হয়।
হুইল চেয়ারের চাকাকে চাকাই ভাবুন, তাতে চলতে ফিরতে সুবিধা হবে। চাকাকে যদি সূর্য চন্দ্র ভেবে বসেন তাহলে মুশকিলে
পড়ে যাবেন।
বিজেপি বিরোধী হাওয়া অনেকেই টের পাচ্ছেন, তেমনটাই হওয়ার কথা, কেন্দ্রীয় সরকারের সৌজন্যে সাধারণ মানুষের বেঁচে
থাকার সব রাস্তাই বন্ধ হয়ে গেছে, তার ওপর ওরা বলছে বঙ্গাল দখল করবে, তাহলেই হয়েছে… আপনার লেখার সঙ্গে
বেশিরভাগ মানুষ সহমত পোষন করবেন কারণ আপনার যুক্তির একটা মানে আছে।