পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি জুড়ে এখন শুধু খেলা আর খেলা। বক্তৃতা, টক শো, মিছিল মিটিং, সোস্যাল মিডিয়া সবই এখন রাজনীতিবিদদের খেলার মাঠ। সবাই নানাভাবে খেলার কথা বলে চলেছেন। আগে ভোট এলে হাওয়ায় ভাসতো সন্ত্রাস, মৃত্যু, রিগিং, বুথ দখল, ভোট জালিয়াতি, হামলা, সেনা টহল, বুথ, প্রার্থী, ভোটদান এসব শব্দ। এখন সবকিছু ছাপিয়ে শুধুই খেলা! রাজনীতি এখন এত ক্রীড়া সচেতন হয়ে উঠেছে ভেবেও ভালো লাগছে! কেউ কেউ অবশ্য গাইছেন ‘নয় নয় নয় এ মধুর খেলা’, সে না হোক, সবকিছুই যে মধুর হবে তার কোন মানে নেই। তবুও খেলা তো।

রাজনীতি, ভোট এসব ব্যাপারকে ‘খেলা’ বলে খাটো করে দেওয়া হচ্ছে বলে কেউ চটে যেতে পারেন। তাদের বলি, চটবেন না। ভোট তো আসলে একটা খেলাই। খেলায় জিতলে যেমন ট্রোফি, ভোটে জিতলেও তেমনি পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের দন্ডমুন্ডের মালিক হয়ে বসার ব্যবস্থা। এ সুযোগ ছাড়া যায়! ভোটে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, অফিস আদালত, ময়দান, রাজপথ, জনপদ সবই খেলার মাঠ। একদলের ক্যাপ্টেন তো বলেই দিয়েছেন, তিনি মুখোমুখি খেলতে রাজি। আরেক দলের ক্যাপ্টেন বলেছেন, খেলায় তার কোন আপত্তি বা অসুবিধা নেই, খেলা হোক! তৃতীয় পক্ষ বলছেন, এসব বলে বিষয়টিকে লঘু করে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তারা খেলতে রাজি।
রাজনীতির রক্তারক্তি, উত্তেজনা, সন্ত্রাস, হিংসা খেলাতে এসে যদি মিলিয়ে যায় তার থেকে ভালো আর কিছুই হয়না। তাহলে আমার মত ভিতু মানুষও মাঠে নামতে পারে। কিছু মানুষ ঘাড় কাত করে বলছেন, খেলা হবে, ভয়ঙ্কর খেলা হবে! আমার মনে হয়, তা হবেনা। খেলা ভয়ঙ্কর হবে কেন? ভয়ঙ্কর হলে তাতো খেলা হয়না! সংগ্রামী সাথী, কমরেড, বন্ধুগণ, জনগণ, মা ও বোনেরা, ভাই ও বন্ধুরা, মেহনতি মানুষ— মানে রাজনীতিবিদরা যাদের তাক করে বক্তিমে ঝাড়েন, তারা সবাই এই খেলায় মাঠে নামতে পারেন। ভাবছেন, আপনার মত ‘নেই’ হয়ে থাকা একটা মানুষকে লোকে খেলতে নেবে কেন? আরে, না নিলেই বা ক্ষতি কি? আপনি নিজেই করে ফেলুননা কেন একটা টিম। এ খেলায় সবাই মাঠে নামতে পারেন। তাই ফাঁকা মাঠে কারও গোল দেওয়ার সুযোগ নেই। লায়েক হলে মানে ১৮ বছর বয়স হলেই আপনি মাঠে নেমে পড়তে পারেন।

ভাবছেন আমি তো ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল এসব কোন খেলাই পারিনা, তাহলে কী খেলবো! ঘাবড়াচ্ছেন কেন, আপনার যা ইচ্ছে তাই খেলুন। ডাংগুলি, কাবাডি, গাদি, গোল্লাছুট, কুমিরডাঙা, এক্কা-দোক্কা কোন না কোন খেলা তো জানেন, সেটাই খেলুন। খেলাটাই আসল কথা। একটাই কথা বলার, বিধিসন্মত সতর্কীকরণও বলতে পারেন, মনে রাখুন সহজ পাঠ এর প্রথমভাগে রবীন্দ্রনাথের সেই কথাটা— ‘একা একা খেলা যায়না’। সঙ্গে মানুষ থাকা চাই নাহলে কিন্তু খেলা বাতিল হয়ে যাবে।