কে জানতো জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে তিমিও একটা গুরুত্বপূর্ণ শক্তি! এ কাজটা সে করে চলে নিঃশব্দে। বিজ্ঞানীরা হিসেব কষে দেখেছেন কার্বন দূষণ রোখার কাজে একটা তিমির ভূমিকা হাজারটা গাছের সমান। এই তথ্যটা বেশ চমকপ্রদ। এটা জানা গেছে আইএমএফ-এর একটা সাম্প্রতিক সমীক্ষা থেকে।
একটা পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে ২২ কিলোগ্রাম কার্বন সঞ্চয় করতে পারে। একটা তিমির জীবনের মেয়াদ গড়ে ৬০ বছর। সে তার শরীরে সঞ্চিত করতে পারে ৩৩ টন কার্বন। এমনকি মৃত্যুর পরেও তার এই ভূমিকার পরিবর্তন হয়না। সমুদ্রতলে পড়ে থাকা তিমিটার দেহাবশেষ বহু বছর ধরে কার্বন সঞ্চয় করে চলে। বস্তুত তা পরিণত হয় কার্বন সিঙ্ক-এ। সমুদ্রের তলদেশে এ যেন এক বিশেষ ইকো সার্ভিস। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘হোয়েল পাম্প’।
তিমিদের এই নীরব পরিষেবাকে ডলারে পরিণত করার আঁক কষছে ইন্টারন্যশনাল মানিটারি ফান্ড। একটা তিমি তার শরীরে বছরে যে পরিমাণ কার্বন সঞ্চিত করে তার প্রতি টনের দাম হিসেব করতে চাইলে তা দাঁড়াবে ২ মিলিয়ন ডলার। আইএমএফ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর র্যালফ চ্যামের হিসেবে সমুদ্রের সমস্ত তিমির সংখ্যা ধরলে এই অঙ্কটা দাঁড়াবে ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আইএমএফ-এর হিসেবে দেখা যাচ্ছে একটা তিমি বছরে যা কার্বন সঞ্চয় করে তা গাছ, বাদাবন, শ্যাওলা সবার মিলিত কার্বন সঞ্চয়ের চাইতে বেশি।

৫০০ বছর আগে বাণিজ্যিকভাবে তিমি নিধন শুরু হওয়ার আগে সমুদ্রে ছিল ৫ মিলিয়ন তিমি। আইএমএফ অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া তিমির নানা প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে কার্বন দূষণ মোকাবিলার একটা জোরালো শক্তি তৈরি করার জন্য।
নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী দক্ষিণ আটলান্টিকে এখন তিমির সংখ্যা ২৫ হাজার। পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। পৃথিবীর সব সমুদ্র মিলিয়ে এখন মোট তিমির সংখ্যা দাঁড়াবে ১ মিলিয়ন। এটা দ্বিগুণ হতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ বছর। তিমির সংখ্যা বাড়লে বাড়বে জলে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ, শ্যাওলা এবং ছোট ছোট প্রাণীরা। তিমির জীবনচক্রের সঙ্গে এগুলির এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এটা একটা বাস্তুতন্ত্র। এই ব্যবস্থাটাকে অটুট রাখলে জলে প্রতি বছর মিলিয়ন টন কার্বন কমবে, বাঁচবে প্রকৃতি।
তিমির সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে আইএমএফ অর্থনৈতিক কারণটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ বাড়ার ফলে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে সেটাকেই সামনে রাখতে চাইছেন তারা। তাদের মূল মন্ত্র আমরা তিমিদের বাঁচালে, তিমিরাও আমাদের বাঁচাবে।