সৌম্য সিংহ
অবশ্যই মর্মান্তিক ঘটনা। কিন্তু তার থেকেও বেশি অবাক করেছে এই মৃত্যু। করোনা-মৃত্যুর হাতছানির বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ ঘোষণা করেছে গোটা দুনিয়া, ঠিক তখনই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে দিল্লিতে মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পন করলেন বিদেশ ফেরত এক যুবক। করোনা-আক্রান্ত সন্দেহে সিডনি থেকে আসা ঐ যুবককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল সফদরজং হাসপাতালে। বুধবার রাতে ৭ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন ২৩ বছরের ঐ যুবক। স্বাভাবিকভাবেই এই মৃত্যুকে ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং গভীর উদ্বেগ। খোঁজা হচ্ছে নেপথ্যের মনস্তাত্ত্বিক কারণও। আত্মহত্যার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.প্রদীপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, এটা আসলে Trauma Induced Reactive Depression, impulse in nature.
পুলিশসূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকবছর সিডনিতেই থাকতেন ঐ যুবক। বুধবার উড়ানে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন পাঞ্জাবে নিজের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করার পরে তিনি মাথার যন্ত্রণা করছে বলে জানান। প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরে তাঁকে করোনা-আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হয়। পাঠানো হয় সফদরজং হাসপাতালে। রাত ৯টা নাগাদ ভর্তি করে পাঠানো হয় সুপারস্পেশালিটি ব্লকের কোয়ারান্টিনে। মিনিট ১৫ পরে কিছু একটা ভারি জিনিস পড়ার শব্দে ছুটে আসেন হাসপাতালের রক্ষীরা। দেখেন নিচে চাপ চাপ রক্তের মধ্যে পড়ে রয়েছেন ঐ যুবক। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। কিন্তু কেন?
এস এস কে এম হাসপাতালের ‘ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি’র ডিরেক্টর ডা. প্রদীপ সাহা মনে করেন, এটা একটা ইমপালসিভ বিহেভিয়ার। করোনা ভাইরাসে যুবকটি আক্রান্ত হয়েছেন, না হননি, তা আদৌ নিশ্চিত নয়। কিন্তু সন্দেহ করে তাঁকে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। আটকে রাখা হলো। এটা তিনি মেনে নিতে পারলেন না। এটা মানুষের আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা, আত্মক্ষমতা এবং আত্মস্বাধীনতায় ঘা দিতেই পারে। তিনি হয়তো সেরকমই কোনও চরম আঘাত পেয়েছিলেন, অপমানিত বোধ করেছিলেন। এই ট্রমা থেকেই জন্ম নিয়েছিল রিঅ্যাক্টিভ ডিপ্রেশন। অবসাদ। তাঁর হয়তো মনে হয়েছিল, এই পৃথিবী বড়ই নিষ্ঠুর। এর পরিবেশ নিষ্ঠুরতায় ভরা। তাই এই পৃথিবী থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়াই ভালো। এবং তারই পরিণতি এই আত্মহত্যা। তবে এর নেপথ্যে কোনও প্যানিক অ্যাটাকের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছেন ডা.সাহা।