করোনা-যুদ্ধ ক্রমেই কঠিন হয়েছে। তারই মধ্যে প্রকট হয়েছে মোদী-শাহের দিশেহারা দশা। আর তাই আবারও দেশের মানুষ এই সঙ্কটে আস্থা রাখছেন একজনেরই দিকে। কেন্দ্র তো বটেই, অন্য রাজ্যগুলিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা সময়োচিত পদক্ষেপ ফলো করছে। কঠিন লড়াই জয়ের অভয়বাণী শুনিয়ে নির্ভীক জননেত্রী আবারও নিজেকে মেলে ধরেছেন মানবিক দেশনেত্রী হিসেবে। তাই তো তিনি বাংলার গর্ব, দেশের গর্ব। অতুলনীয়।
প্রথমেই উল্লেখ করব দুটি কথা। প্রথমেই সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ভাইরাল হয়েছে সেই ছবিটি। কী অনবদ্য সেই ছবি! জননেত্রী রাত জেগে একা করোনার মোকাবিলা করছেন, মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন। ছবিই বলে দিচ্ছে প্রতিটি মানুষের মনের ভাষা। প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক টিম ‘বাংলার গর্ব মমতা’ পেজে এই অসামান্য ছবি উপহার দিয়েছেন, শুধু এমন ইউনিক ভাবনার জন্যই তাঁদের বাড়তি অভিনন্দন প্রাপ্য।

আরেকটি লেখা খুব ভাইরাল হয়েছে। একজন লিখেছেন, আমি সিস্টার নিবেদিতাকে দেখিনি, মাদার টেরেসার কাজ চাক্ষুষ করার সৌভাগ্য হয়নি। তাঁদের কথা বইতে পড়ে জেনেছি। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য হলো আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেছি।
না, এই তুলনা কাউকে ছোটো, বড়ো বা সমান দেখানোর নয়। বিজেপির কথা বাদ দিন। অতি বড়ো বামপন্থীরাও লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব কাজে হয়তো আমরা সহমত না হয়ে সমালোচনা করি, কিন্তু বামফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী কোনও ‘বাবু’ এই কঠিন সময়ে যেটা করতে পারতেন না, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে দেখাচ্ছেন। তাঁর এই ভূমিকাকে নতমস্তকে সম্মান জানাতেই হয়।

আগের পর্ব যেখানে শেষ করেছি, সেখান থেকেই শুরু করব। যাঁরা আগের পর্বের লেখাটি পড়তে পারেননি তাঁদের জন্য এই লেখার নীচে একটি লিঙ্কে ক্লিক করলেই পড়তে পারবেন। আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখি মূল্যবান মতামত প্রদানের।
করোনা-ঝড় থেমে যেতেই ফিরে আসবে রাজনীতি। জননেত্রীর কাজ দিয়েই সেই ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতাকে রুখে দেওয়ার রসদ লিপিবদ্ধ করে রাখতে এই লেখা। আপনারা যখন প্রচারে নামবেন তখন কাজে লাগতে পারে।

বিজেপির দু আনা, চার আনা নেতা কী বলল কিস্যু যায় আসে না। সাময়িকভাবে হলেও মোদী, শাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন, পরে তাঁকেই আবার আক্রমণ করবেন এটাও জানি। কিন্তু ওঁরা বাধ্য হয়েছেন জননেত্রীকে ফলো করতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি মেনে রেল আর উড়ান আগে বন্ধ করলে এতটা খারাপ অবস্থা হতো না দেশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কড়া চিঠি না দিলে উড়ান কবে বন্ধ হতো কে জানে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মনে করান বাংলার ভৌগোলিক অবস্থানের কথা। নর্থ-ইস্টের গেটওয়ে। সিকিম, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ। আবার ঝাড়খন্ড, বিহার, ওডিশা বর্ডার। এতো বড়ো রাজ্য। মহারাষ্ট্র, কেরল, গুজরাটে যেখানে এতো আক্রান্ত সেখানে বাংলায় কিন্তু অবস্থা যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে। ঈশ্বরের কৃপা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা ও তৎপরতা এর অন্যতম কারণ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দারুণভাবে রাজ্যে সর্বদল বৈঠক করেছেন। মোদীবাবু প্রধানমন্ত্রী, কত সুবিধা তাঁর। কিন্তু বারবার তিনি গোল হজম করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।

কী দরকার ছিল বছর ৬৫-র দিদি-র এই গরমে রোজ সারপ্রাইজ ভিজিটে বেরোনোর? কীভাবে কেনাকাটা করতে হবে হাতেকলমে বোঝানোর? দেখা গিয়েছে, টিভির প্রচারে সব হয় না। গড়িয়াহাটে সবজি বিক্রেতার ডেটল ব্যবহারের ভুল ধারণা ভেঙে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন, সাধারণের হাতে তুলে দিয়েছেন মাস্ক। তিনি এভাবে বেরিয়েছেন তিনি আদর্শ ক্যাপ্টেন বলে। জাহাজের ক্যাপ্টেন, খেলার দলের ক্যাপ্টেন বা রাজনীতির ক্যাপ্টেনরা এমনই হন, নেতৃত্ব দেন সামনে থেকে। অপদার্থ কংগ্রেস আর কিছু রাজনৈতিক দলের টাকার কাছে মাথা নোয়ানোর ফলে মোদী, শাহরা ক্ষমতায় বসেছেন। এনআরসি, এনপিআর, সিএএ বিরোধিতায় দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইতে নেতৃত্ব দিতে দিতেই করোনা-যুদ্ধে দেশকে পথ দেখাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ক্রিকেটের পরিভাষায় এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে নেমেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন জননেত্রী। অন্যদিকে ট্রাম্প বন্দনার হ্যাংওভার না কাটানো আর করোনা আতঙ্কের মধ্যেও মধ্যপ্রদেশে ঘোড়া কেনাবেচা, সরকার গড়ায় ব্যস্ত মোদী-শাহদের করোনা-যুদ্ধে দিশেহারা লাগছে।

লকডাউন ঘোষণা করলেও গরিব মানুষের কথা ভাবেনি কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশ থেকে আটকে পড়াদের আনতে বিমান যায়, আর যাঁদের ভোটে উনি প্রধানমন্ত্রী হলেন সেই মানুষদের লকডাউনে কী হতে পারে ভাবলেন না! দিল্লিতে গণহত্যা চলার পর করোনার আগমন, হোলির পর তা বাড়ছে হু হু করে! হাজার হাজার মানুষ বিপন্ন, কাজ হারিয়েছেন। লকডাউনে মালিকরা পথে বের করে দিয়েছেন। না, সুষ্ঠুভাবে তাঁদের বাড়ি ফেরানো নিশ্চিত করতে পারেনি মোদীর সরকার। বাধ্য হয়ে বাচ্চা কাঁধে, মালপত্র নিয়ে চড়া রোদে হাঁটতে হয়েছে। হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে মারা গেছেন জনা পনেরো। সংখ্যাটা কম নয়। কী হবে ওই পরিবারগুলির? মোদীর মন কি বাত চলছে, আর তখন কয়েকশো কিলোমিটার হেঁটে বাড়ির ৮০ কিলোমিটার দূরে রাস্তায় পড়ে মারা যাচ্ছেন যুবা। করোনা মৃত্যুর আড়ালে এই হতভাগ্য শ্রমিকদের মৃত্যুর দায় কেন নেবেন না মোদীবাবু? আপনার রাত আটটার ভাষণে লোক মরে, তা নোটবন্দি হোক বা করোনা-লকডাউন। কোনও ছকে কুর্সিতে বসলেও আপনি মানুষের মনে দেশের নেতা হতে পারেননি। আপনার সবটাই বাহারি চমক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনার থেকে কয়েকশো যোজন এগিয়ে।

আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের লাগে ৮ দিন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কবে তহবিল গড়েছেন কেন্দ্রীয় সাহায্য না পেয়েই। কিট, চিকিৎসার সরঞ্জাম কিনে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত সবার জন্য স্বাস্থ্যবিমা থেকে শুরু করে গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে ৬ মাস রেশন, নানা সামাজিক পেনশন আগাম দেওয়া, প্রচেষ্টা প্রকল্পে গরিবদের হাজার টাকা করে দেওয়া এ সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগে করেছেন। সেই মডেল ফলো করে এর অনেক পরে তেমন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র, যা অনেক আগে করার দরকার ছিল। কেউ চাইলে নেট খুলে মিলিয়ে নেবেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভেবে ১৮ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি পাঠানোর পর টনক নড়ল কেন্দ্রীয় সরকারের। তার আগেই অন্য রাজ্যের শ্রমিকদের দেখভাল শুরু করেছে বাংলার প্রশাসন, সহযোগিতা করেছেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা, তৃণমূলের সৈনিকরা। আর কেন্দ্র যখন নির্দেশিকা দিচ্ছে তখন আনন্দবিহার বাস টার্মিনালে কয়েক হাজার শ্রমিকের ভিড় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে মোদীর ভিডিও কনফারেন্স, ভাষণ কত ঠুনকো। করোনার ভয়ে মোদী যখন ঠান্ডা ঘরে, তখন আনন্দবিহারে নিরানন্দ, সোশ্যাল ডিসটান্সিং শিকেয় হাজারো মানুষের ভিড়ে। তার অনেক আগেই বাংলার আটকে পড়া শ্রমিকদের কয়েকশো কিলোমিটার দূরে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিশেষ বাস। সেটা ফলো করতে না পেরে কেন্দ্র আর আপ সরকারের চুলোচুলি বুঝিয়ে দেয় প্রস্তুতির কত অভাব ছিল।

বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজে ঘুরেছেন বিভিন্ন বাজারে। মমত্ব দেখিয়ে সচেতন করেছেন পশু-পাখিদের প্রতি যত্ন নিতে। কার্ফু শব্দের আতঙ্ক সরিয়ে তিনি বলেছেন, এখানে কোনও কারফিউ নেই। জরুরি পরিষেবায় যুক্তদের কথা ভেবে বাস দিয়েছেন, বাংলাজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহণে বাধা যেন না দেওয়া হয় তেমন নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের কিছু অতিসক্রিয়তা বন্ধ করতে বলেছেন, কড়াকড়ি ভালো, বাড়াবাড়ি নয়। করোনা নিয়ে যেমন প্যানিক বা আতঙ্কে ভুগতে বারণ করেছেন তেমনই মাটির কাছে থাকায় তিনি প্রত্যন্ত মানুষকে সহজভাবে বোঝাতে পেরেছেন কোয়ারান্টিন বা আইসোলেশন শব্দের অর্থ যে, ওটা জেল নয়। পক্স হলে বা বেড়াতে গেলে যেমন আলাদা থাকি তেমন। আর কারও একটা ঘর থাকলে যিনি গৃহ পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি মশারির ভিতর থাকুন, বাকিরা বাইরে। তবে কেউ রোগ লুকাবেন না। কী সুন্দর সহজ-সরলভাবে বোঝানো। না, মোদীকে ফিটনেস ভিডিও পোস্ট করতে দেখা গেলেও ওই শব্দগুলো মানুষের কাছে সহজবোধ্য করতে দেখা যায়নি মোদীবাবুকে। ভবঘুরেদের নাইট শেল্টারে রাখা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা বাংলার আগে কে করতে পেরেছে? কলকাতার পর জেলায় জেলায় ডেডিকেটেড করোনা-হাসপাতাল কে করতে পেরেছে? রেশন কার্ড না থাকলেও এই সময় খাদ্যসামগ্রী পাবেন, গরিবদের কথা ভেবে এমন ঘোষণা কে করতে পেরেছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কেউ পারেননি। বিজেপি সাংসদ, বিধায়ক, নেতারা ঘরে বসে। ওদের দলের টুইটারে দেখা যায় কাজ করার ছবিই নেই। খালি দিল্লির রিটুইট। লোকসভা ভোটের ভুল বুঝতে পেরেছে জঙ্গলমহল। সেখানকার মানুষ উপলব্ধি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের কথা কতো ভাবেন। চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তিনি যখন বলেন, জঙ্গলমহলের মানুষকে ভালো রাখতে হবে। অলচিকি ভাষায় সচেতনতার প্রচার চালাতে হবে। বিজেপি সাংসদদের বাদ দিন, কেউ এমন ভাবনা ভেবেছেন? না। তাই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার গর্ব, দেশের গর্ব। মোদী টাকার গদিতে বসে রামায়ণ, মহাভারত দেখাচ্ছেন, বাত শোনাচ্ছেন, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের মুখে ভাত তুলে দিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক প্যাকেজের কতটা বাংলা পাবে, বলবে সময়। বিজেপি নেতাদের মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস দূর করতে কান ধরে ওঠবোস করাতে হবে। কেন?

ওরা বলত বুলবুলের টাকা কেন্দ্র নাকি দিয়েছে। তৃণমূল বলত দেয়নি, মোদীভক্তরা বলত মিথ্যা কথা। করোনা পরিস্থিতি হাটে হাঁড়ি ভেঙেছে। রাজ্যের দাবি বেশি থাকলেও ওই সমুদ্র থেকে এক ঘটি জলের মতো প্রায় ১১০০ কোটি টাকা মোদী-শাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করার পর রিলিজ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কী বিজেপির বাবুরা? মিথ্যা, জুমলা কদিন চলবে? মুখে রাজনীতি না করার কথা, আর মন কি বাত শুধুই হিন্দুত্ববাদ?
রোদে মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য আধলা ইট হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে অনেকের চোখে গর্বের অশ্রু এসেছে। আবার সেই ছবি দেখে গালাগালি করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে গিয়েছে কিছু নির্লজ্জ বিজেপি নেতা। অথচ চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্তদের মুখ্যমন্ত্রী যখন মনোবল বাড়াচ্ছেন, তখন তাঁরাই বলছেন, দিদি আপনার নেতৃত্বেই কাজ করছি। ফলে তৃণমূলের সৈনিকরা প্রস্তুত থাকুন বিজেপি-সহ বিরোধীদের কড়ায়-গণ্ডায় হিসেব বুঝিয়ে বাংলাছাড়া করার। তৃণমূল কর্মীদের সৌভাগ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন ক্যাপ্টেন আছেন।

বিজেপি নাকি লকডাউন চলাকালীন বাংলার পাঁচ কোটি মানুষকে খাওয়াবে। সোমবার খান পাঁচেক পোস্ট হয়েছে শুধু। পাঁচ কোটি দূর, পাঁচশোজন খাননি। দিলীপ-বাবুলদের প্রশ্ন করি, লকডাউনের ন-দিন কোথায় ছিলেন? আপনাদের আগেই সব মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। ভিন রাজ্যে আটকে থাকা মানুষদের সাহায্য করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকী এক বিজেপি নেত্রী পরিবার নিয়ে বিপদে পড়ে শুভেন্দু অধিকারীর সাহায্য পেয়েছেন। না, দিলীপ, বাবুলরা তখন ঘরে বসে। আর ভোঁদড় মার্কা তৃণমূল থেকে বিতাড়িত এক সাংসদ আবোল-তাবোল বকে মিডিয়ায় মুখ দেখানোর চেষ্টা করছিলেন! ফেক নিউজ ছড়িয়ে দোষীরা গ্রেফতার হতেই খয়ের খাঁ-র কী রাগ! আসলে বিপদে মানুষের পাশে থাকব না। ভোটের সময় আসব পরিযায়ী পাখি হয়ে। এটাই ওদের নীতি!
আরেকটা খেয়াল রাখবেন, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাংসদ তহবিলের এক কোটি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। না, ওঁর দলের কয়েকজন জেলাশাসকদের বা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে টাকা দিলেও উনি দেননি। কেন? এই তাঁর বাংলা-প্রেম! বোধহয় খড়গপুর উপনির্বাচনে গোহারান হার হজম হয়নি। তাই মাঝেমধ্যেই আবোল-তাবোল বকেন, আর গোমূত্র পান করে লুকিয়ে সহজপাঠ পড়েন। পড়ুন। যেমন ওঁদের অমানবিক ক্যাপ্টেন, তেমন ওঁরা।

মোদীর মতো জুমলা-ভক্ত এই নেতাদের হিসেব মানুষ বুঝিয়ে দেবেন। আপাতত মানুষের বিপদে নিবেদিতা-টেরেসার মতো সেবারত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে ধন্য তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিকরা। এমন সৌভাগ্য কারও হতে পারে না, এটাই তাঁদের গর্ব।
আগের পর্বটি পড়ুন নীচের লিঙ্কে ক্লিক করে :