জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি এবং ময়নাগুড়ির পর এবার জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ। পর পুরুষের সাথে সম্পর্কের অভিযোগে, এক মহিলার মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মাখিয়ে, জুতার মালা পড়িয়ে তাকে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠলো মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতের এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজগঞ্জ থানার অন্তর্গত পানিকৌড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের পোষ্কার পাড়া এলাকায়। খবর পেয়ে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্নদা রায় নামে এক মহিলা তাঁর স্বামী সদানন্দ রায়কে ছেড়ে দু’বার বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ওই মহিলার সঙ্গে একাধিক পর পুরুষের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীয়ের তেমন সমস্যা ছিল না। বেশ কয়েকবার নিজের স্বামীকে ছেড়ে, বিভিন্ন পর পুরুষের সঙ্গে ওই মহিলা চলে যায় বলেও অভিযোগ। এর পর গত শনিবার বিকালে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। এবারও বেশ কয়েকদিন গ্রামে না থাকার পর ওই মহিলা গ্রামে ফিরলে, তার বিরুদ্ধে স্বামীকে ছেড়ে পর পুরুষের সঙ্গে রাত কাটানোর অভিযোগ তোলেন এলাকার বাসিন্দারা। ওই মহিলা গ্রামে ফেরার খবর চাউর হতেই, তাকে বাড়ি থেকে টেনে বেড় করেন এলাকার মাতব্বরেরা। এরপর গ্রাম ঘুরিয়ে মারধর করে, তার চুল কেটে দেওয়া হয়। তারপর গলায় জুতার মালা পড়িয়ে মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয় ওই মহিলার।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। এলাকবাসীদের বর্বোরচিত নির্যাতনের হাত থেকে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে, পুলিশ আসার খবর পেয়েই গা ঢাক দেয় এলাকার মাতব্বরেরা। এর আগেও জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে পরকীয়ার অভিযোগে এক মহিলার চুল কেটে তাকে মারধরের ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেন জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার। বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য কয়েকমাসে জলপাইগুড়ি জেলায় পরকীয়ার অভিযোগ এই ভাবে নীতিপুলিশির শিকার হয়েছেন একাধিক মহিলা। ক্রমশ এ ধরনের ঘটনা চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রশাসনেরও। এর মধ্যে ৪ মহিলার জামিন মঞ্জুর করলেও আট পুরুষ অভিযুক্তের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় জলপাইগুড়ি জেলা আদালত।