মেয়েদের লেখালেখির উৎসবিন্দু নিয়ে এ আলোচনার সূত্রপাত। আমরা এ-ও দেখে নেব কোন কোন সাময়িক পত্র সেইসময়ে মেয়েদের লেখা প্রকাশে এগিয়ে এসে মেয়েদের লেখনীকে কে উৎসাহিত করেছিলেন।
মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত “সমাচার দর্পণ”, রাজা রামমোহন রায়ের দ্বারা পরিচালিত “সম্বাদ কৌমুদী”, ডিরোজিও শিষ্যদের দ্বারা পরিচালিত “জ্ঞানান্বেষণ”, “সম্বাদ ভাস্কর”, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রেরণায় পন্ডিত দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের দ্বারা প্রকাশিত ও পরবর্তীতে শিবনাথ শাস্ত্রী, মোহনলাল বিদ্যাবাগীশ ও কৈলাশনাথ বিদ্যাভূষণ পরিচালিত “সোমপ্রকাশ” ইত্যাদি সাময়িক পত্রে অন্তরালের নারীরা প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন নিজেদের ভাষায় নিজেদের যন্ত্রণার আলেখ্য নিয়ে।
উৎসবিন্দুতে পত্র আকারেই তাঁদের লেখা প্রকাশ পেতে দেখি। এ আলোচনায় নারীচেতনার উৎসপর্যায়ে প্রকাশিত তিনটি পত্রে আলোকপাত করছি।
মেয়েদের লেখালেখির উৎসপর্যায়ে একটি ধোঁয়াশার বেড়াজালও রয়েছে। সেই সময়ে অনেক পুরুষ মেয়েদের ছদ্মনামে লিখতেন। সেজন্যেই মেয়েদের লেখালেখিকে অনেক পাঠক ছদ্মনামে পুরুষ লেখকের লেখা বলে সন্দেহ প্রকাশ করতেন। এখানেও মেয়েদের লেখা, মেয়েদের লেখা কি না সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেইসময়ের মেয়েদের যুক্তিবাদী পত্রাবলী পুরুষ পাঠকদের সন্দিহান করেছে পত্রটি কি আদৌ নারীর কলম থেকে বেরিয়েছে? এ-ও কি সম্ভব? অন্তরালের অবগুন্ঠিতার কলমে এমন প্রাখর্য? এমন যৌক্তিক বিশ্লেষণ? অর্থাৎ মেয়েদের লেখালেখির স্বীকৃতির পথটি গোড়া থেকেই ছিল বাধাগ্রস্ত, কণ্টকাকীর্ণ।
সেই সময়ের মেয়েদের পত্রাবলীতে পুরুষের বহুবিবাহের ফলে দুর্বিষহ নারীজীবনের প্রসঙ্গ, বিধবাবিবাহ সমর্থন, নারীশিক্ষার দাবি, মেয়েরা যাতে সম্পত্তি অধিকারের দাবিদার হতে পারে সেজন্যে আইন প্রণয়নের দাবি, এবং নারীসমাজের ক্রীতদাসের ন্যায় জীবনযাপনের ছবি প্রকটিত হয়েছে এবং কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আধুনিক যুগের প্রখ্যাত গবেষক গোলাম মুরশিদ “সম্বাদ ভাস্কর” এ প্রকাশিত বিদ্যা দেবী নামে এক পত্রলেখিকার যৌক্তিক বিচার দেখে সন্দিহান হয়ে লিখছেন — “The only exception was one Bidya Debi… It is doubtful whether Bidya Debi’s letter was genuine, because only a handful of women know how to read and write at that time and the standard of their education was, in any case, very low.” (Ghulam Murshid, Reluctant Debutante, Rajshahi, 1983).
প্রশ্ন জাগে, পুরুষ লেখক মেয়েদের ছদ্মনামে কেন লিখতেন?
তাঁরা কি নারীপ্রগতির কথা বলতে গিয়ে সমাজপতিদের ভয় পেতেন?
না কি আরও মেয়েদের হাতে লেখনী তুলে দেবার জন্যে এই পন্থা অবলম্বন করেছিলেন?
তবে মেয়েদের লেখায় যুক্তির প্রাখর্য থাকবে না একথাটি মেনে নেওয়া খুবই মুশকিল কেননা বেশিরভাগ চিঠিতে আমরা মেয়েদের যন্ত্রণাদগ্ধ জীবনবৃত্তান্তের জীবন্ত ছবি দেখতে পাই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন জীবনমুখী প্রতিবাদী লেখা কি সম্ভব?
১৬ ই ফাল্গুন ১২৩৭ বঙ্গাব্দে “সম্বাদ কৌমুদী” সাময়িক পত্রে “অমুকী দেবী” র স্বাক্ষরে একটি পত্র প্রকাশিত হয়। মনে হয় পত্রলেখিকা আশার আলো দেখেছিলেন বহুবিবাহ প্রতিরোধকল্পে এদেশের প্রগতিবাদীদের সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখে, তবে পত্রে নিজের নাম প্রকাশে সাহস পাননি, সমাজরক্ষকদের চোখ রাঙানির ভয় তো ছিলই, তাই ‘অমুকী দেবী’ ছদ্মনামে পত্রটি লিখেছিলেন।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, কৌলিন্য প্রথা কালক্রমে বহুবিবাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, সতীদাহপ্রথা, বিধবা সমস্যার সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে যায়। প্রতিটি প্রথাই ছিল মেয়েদের জন্যে চরমভাবে অমানবিক, অবৈজ্ঞানিক, নৃশংস ও অদ্ভুত। মেয়েরা দীর্ঘ যুগ ধরে এই অসহনীয় অবস্থানে ছিল, যা একমাত্র ক্রীতদাস প্রথার সঙ্গে তুলনীয়। তবে ক্রীতদাসরা বিদ্রোহ করেছিল, ব্যর্থ হলেও একাধিকবার বিদ্রোহ করেছিল। মেয়েদেরকে আমরা সেভাবে বিদ্রোহী হয়ে উঠতে দেখিনি ঐ দীর্ঘযুগ পরিসরে। তাঁদের প্রথম বিদ্রোহের প্রকাশ লেখালেখির মাধ্যমে।
কী নিষ্ঠুর অমানবিক পীড়ন সহ্য করতে হয়েছে মেয়েদের অমুকী দেবীর পত্রের বয়ানে তা স্পষ্ট, শিউরে উঠতে হয় পাঠকদের। পত্রের অংশবিশেষ তুলে ধরা হল —
“… আমার পিতা স্বকৃতভঙ্গ ছিলেন এবং বাল্যকালাবধি প্রায় চল্লিশ সংসার করিয়া থাকিবেন তাঁহার নিজের বাসগৃহ থাকে নাই মাতামহ গৃহে জন্ম হইয়াছিল পরে শ্বশুরের ভবনে ও পথপর্যটনে কাল গত হইয়াছে কোন শ্বশুরগৃহে চারি পাঁচ বৎসর পরে দুই তিন দিনের নিমিত্ত যাইতেন কোনস্থানে দশ বৎসরের মধ্যে একবারও গমনে মহাত্যক্ত হইতেন…।
অমুকী দেবীর পিতা তার মাসিদেরও স্বামী ছিলেন।” … আমার মাতামহ তাঁহাকে দেশ হইতে আনিয়া আমার মাতার সহিত এবং আমার আর চারি মাতৃসহোদরাসহ বিবাহ দিয়াছিলেন শুনি যে তাহার পর এদেশে একবার আগমন করিবাতে মাতার ও দুই মাতৃস্বসার এক২ কন্যা হইয়াছিল…।
পত্রের ভাষা ও জীবন অভিজ্ঞতা একজন পীড়িত নারীর। সেই কন্যারা বড় হয়েছে মায়েদের কাছে। তাঁর পিতা কিংবা বৈমাত্রেয় ভাইরা কখনও খোঁজ খবরে ছিলেন না। কিন্তু বিবাহের পূর্বে এরা এসে হাজির হলেন —
“… কিন্তু যখন তাঁহারদের মনে এমতো শঙ্কা হইল যে আমাদের মাতারা কি জানি স্বাধীনতাতে বিবাহ দেন তখন পাঁচছয়জন ষন্ডামার্ক বিমাতা পুত্র অন্যপক্ষের দুই মাতুল এবং পিতা জ্যেষ্ঠতাতের তুল্যবয়স্ক এই পাত্রসহিত গ্রামে গোপনে রহিলেন এবং পরদিবস প্রায় সন্ধ্যাকালে আমারদিগের মাতার গোপনে এবং আমারদিগের অসম্মতিতে লইয়া গিয়া সেই পাত্রসহিত একেবারে একরাত্রে বিবাহ দিলেন সেই অবধি প্রায় পঞ্চাশ বৎসর বয়ঃক্রম হইল পতির সহিত দর্শন নাই …”
কীভাবে কালযাপন করতেন তাঁরা?
তাঁদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হত তারপর সেই স্বামীর খোঁজখবর থাকত না আর পরগৃহে রান্না করে দাসীবৃত্তিতে সারা জীবন কেটে যেত। অমুকী দেবীর পত্রের শেষে সেই কথাটি উল্লিখিত হয়েছে —
“মাতুলের ভবনে কখন পাচিকা কখন দাসীরূপে কালযাপন করিতেছি নূতন নিয়মে আমারদের কি হইতে পারে যাহা অদৃষ্টে ছিল তাহা হইয়াছে কিন্তু আমারদের হর্ষের বিষয় এই যে তদ্দ্বারা আমাদের তুল্য দুঃখিনী আর কেহ হইবেক না….”
নিজের জীবনকাল অতিবাহিত হয়ে গেছে, নতুন করে আর কিছু পাবার আশা তিনি করেন না, তবে নারীঅধিকার সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নে ভবিষ্যতে মেয়েরা যাতে মানুষের মত জীবনযাপন করতে পারে সেই আশায় তাঁর পত্রলিখন।
২ রা চৈত্র ১২৪১ বঙ্গাব্দে নিজেদের নাম উহ্য রেখে শান্তিপুর নিবাসিনী স্বাক্ষরিত একখানি পত্র “সমাচার দর্পণে” প্রকাশিত হয়। পত্রখানিতে রীতিমত প্রতিবাদী কিছু উচ্চারণ রয়েছে, রয়েছে কিছু অমোঘ ন্যায্য প্রশ্ন এবং নারী অধিকারের প্রসঙ্গ।
শান্তিপুর নিবাসিনী লিখছেন –
“আমরা পতিহীনা দীনাক্ষীণা এবং অবিবাহিতা কুলীন কন্যা… ”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সেইসময়ে কুলীন কন্যা স্বজাতি স্বঘর কুলীন পাত্রের অভাবে অবিবাহিতা থেকে যেত। তখন মানুষের সমস্ত ভাবনাচিন্তা ছিল বিবাহকেন্দ্রিক এবং নারীদের বিবাহ ভিন্ন যৌনসুখ উপভোগ করার ক্ষেত্রে ভয়ানক বিধিনিষেধ ছিল আবার পুরুষদের ছিল লাগামছাড়া অধিকার। পুরুষের ক্ষেত্রে বহুবিবাহ, বেশ্যালয়ে গমন কোনও কিছুই অপরাধ বলে গণ্য হত না। এই চরম অসাম্য ও অপরাধ দীর্ঘ যুগ ধরে মেয়েরা সহ্য করেছে, করতে বাধ্য হয়েছে।
শান্তিপুরনিবাসিনী লিখছেন, ইংরেজ সমাজে বিধবা হলে পুনর্বিবাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কায়স্থ ও ব্রাহ্মণকন্যা বিধবা হলে পুনর্বিবাহের ব্যবস্থা নেই আবার ঐ অবিবাহিতা কন্যা উপপতির আশ্রয় করতে পারেন না তাতে তিনি “কুলভ্রষ্টা” ও “নষ্টচরিত্রা” বলে বিবেচিত হন।
এখানে লক্ষণীয় পত্রলেখিকার সাহসী উক্তি —
“…বাঙ্গালা শাস্ত্রমতে এমত আছে যে অপ্রৌঢ়া বিধবা হইলে পুনরায় বিবাহ হইতে পারে। তাহার প্রমাণ আছে যাহারা সুরাসুর ও প্রধান২ পুরাতন রাজা তাঁহারদিগের পত্নী পতি অভাবে পুনঃস্বয়ম্বরা হইয়াছেন এবং স্বামিসত্ত্বে অনায়াসে উপপতি লইয়া সম্ভোগ করিয়াছেন তাহাতে ধর্ম্মবিরুদ্ধ হয় নাই। …. তৎসময়ে কুলীনাকুলীন ছিল না কিমাশ্চর্য! সুরাসুর রাজাদিগের ঐ সকল কর্ম্মে ধর্ম্মবিরুদ্ধ হয় না। এইক্ষণে পুরুষদিগের ধর্ম্মবিরুদ্ধ হয় না। কেবল স্ত্রীলোকের সুখসম্ভোগ নিষেধার্থে কি ধর্ম্মশাস্ত্র ও পুরাণতন্ত্র সৃজন হইয়াছিল।”
নারী চিরকাল এই নিদারুণ অমানবিক ব্যবস্থার অধীন ছিল না। মধ্যযুগের অন্ধকারপর্বের পূর্বে নারীদের যৌন স্বাধীনতা ছিল। পত্রে প্রসঙ্গাক্রমে এই সত্যটি তুলে ধরা হয়েছে।
এবারে আশ্চর্য হয়ে দেখছি পত্রলেখিকার আত্মবিশ্বাসী কলম নারীঅধিকার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের জন্যে অনুরোধক্রমে পরোক্ষে দাবি জানিয়েছেন।
“… এইক্ষণে ধার্মিক রাজা ইঙ্গরেজবাহাদুর নানাবিধ ধর্ম সংস্থাপন করিতেছেন। আমারদিগের ধর্ম্মশাস্ত্রে এই যাতনা নিবারণের উপায় আছে তাহা প্রাচীন পুরাণ ও শাস্ত্রে দৃষ্টিপূর্বক ও প্রধান প্রধান পন্ডিত মহাশয়ের দ্বারা অবগত হইয়া শুদ্ধ সম্বিচার করিয়া অনুগ্রহ পূর্বক আইন অনুসারে প্রকাশ করেন কিংবা বিশিষ্ট কুলোদ্ভব মহাশয়দিগের উপস্ত্রী সহিত সম্ভোগরহিত করেন… কেননা স্ত্রীলোক ব্যভিচারী কেবল পুরুষের দ্বারা যদ্যপি পুরুষসকল উপস্ত্রীবর্জিত হন তবে স্ত্রীলোক কুলটা হইতে পারে না। ”
৯ই চৈত্র ১২৪১ বঙ্গাব্দে” সমাচার দর্পণে”” চুঁচুড়াবাসী স্ত্রীগণস্য” স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সূত্রাকারে স্ত্রীশিক্ষা, পর্দাপ্রথা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, বহুবিবাহের নামে নারী কেনাবেচা, বিধবাবিবাহ ইত্যাদির প্রসঙ্গে অসাধারণ যৌক্তিক দাবি ও তৎকালীন সমাজপতিদের দ্বারা নারীসমাজের প্রতি অযৌক্তিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে নানা প্রস্তাব, প্রশ্ন ও সমালোচনামূলক ভাষ্য তুলে ধরেছেন এবং তার নিরসন চেয়েছেন।
প্রথমেই করেছেন নারীশিক্ষার দাবি —
“হে পিতঃ ও ভ্রাতরঃ সভ্যদেশীয় স্ত্রীগণের যেমন বিদ্যাধ্যয়ন হয় তদ্রুপ আমারদিগের কি নিমিত্ত না হয়। আপনারা কি ইহা বুঝেন যে বিদ্যাধ্যয়ন করিলেই সাংসারিক নীতি ও ধর্ম্ম প্রতিপালন হইতে পারে না।”
মেয়েদের অবস্থান যে সেইসময়ে ক্রীতদাসদের মত কিংবা অবলা পশুদের মত কিংবা পণ্যদ্রব্যের মত তার একটি স্বচ্ছ ছবি তাঁরা তুলে ধরেছেন।
“বলদ ও অচেতন দ্রব্যাদির ন্যায় আমারদিগকে কি নিমিত্ত হস্তান্তর করিয়া আপনারা নির্দ্দয়াচরণ করিতেছেন আমরা কি আপনারাই বিবেচনাপূর্ব্বক স্বামী মনোনীত করিতে পারি না। আপনারা কহেন যে আমারদের কুলধর্ম্ম ও সম্ভ্রম বজায় রাখিতে হইবে এই নিমিত্ত কোন বিবেচনা করিয়া যাহারদের সঙ্গে আমারদের কখন কিছু জানা শুনা নাই এবং বিদ্যা কি রূপ কি ধনাদি কিছু নাই এমত পোড়া কপালিয়ারদের সঙ্গে কেবল ছাইর কুলের নিমিত্ত আমারদের বিবাহ দিতেছেন এবং যখন অতি বালিকা অর্থাৎ ৪/৫/১০/১২ বর্ষবয়স্কা এমত অজ্ঞানাবস্থায় আমারদিগকে দান করিতেছেন সংসারের মধ্যে প্রবেশের কি এই উচিত সময়।…
…. হে পিতঃ ও ভ্রাতরঃ আপনারা কেহ২ টাকা লইয়া আমারদিগকে বিবাহ দিতেছেন তাহাতে যাঁহারা মূল্য অধিক ডাকেন তাঁহারাই আমারদের স্বামী হন এবং আমরা তাঁহারদের ক্রীত সম্পত্তির মধ্যে গণ্যা হই। তাহাতে যে টাকা পাওয়া যায় তাহা যদি আমারদিগকে স্ত্রীধন বলিয়া দেওয়া হইত তবে সে স্বতন্ত্র কথা ছিল কিন্তু সেই সকল টাকা লইয়া আপনারা নিজ ব্যয় করিতেছেন। অতএব ইহাতে আমাদিগকে জীবদ্দশাতে বিক্রয় করা হইতেছে…”
এভাবে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের মত কুৎসিত প্রথার অতি নিন্দনীয় দিকগুলো তারা তুলে ধরেছেন।
পত্রগুলিতে যৌক্তিক পারম্পর্য লক্ষণীয়। গদ্যভাষাটি জীবন্ত, নারীচেতনার আধার হিসেবেই তা ব্যবহৃত হয়েছে। সহজেই অনুমেয় পীড়িতা নারী অন্তরালের অচলায়তনে চিড় ধরাতে মসীকেই অসি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ সাময়িক পত্রের এগিয়ে আসায় মেয়েদের আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রটি সুগম হয়েছে।
তথ্যসূত্র — “বাঙালি মেয়ের ভাবনামূলক গদ্য-উনিশ শতক”। সংকলন ও সম্পাদনা। সুতপা ভট্টাচার্য।