জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় মহিলাদের নাম বারেবারে পদবিশুদ্ধ ব্যবহার করেছেন। বনলতা সেন, শেফালিকা বোস, অরুণিমা সান্যাল, মৃণালিনী ঘোষাল-রা তাঁর কোনও প্রেমিকা ছিলেন কিনা কিংবা কোনও না কোনও সময়ে তিনিই তাঁদের প্রেমে পড়েছিলেন কিনা, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন অনেক জীবনানন্দ-বিশেষজ্ঞ। কিন্তু একজন বনলতা সেনকে খুঁজতেই তাঁদের হিমসিম খেতে হচ্ছে, দিশেহারা অবস্থা। ঐকমত্য হয়নি আসল বনলতা কে তা নিয়ে, ফলত অনেক বনলতা ভনভন করছেন বিশ্লেষকদের বিচারে। অশোক মিত্র মশায়ের বনলতা, ভূমেন্দ্র গুহের বনলতা অথবা গৌতম মিত্রের বনলতা, সব আলাদা। একা বনলতাতেই রক্ষা নেই, তো সুরঞ্জনা, সুচেতনা! বস্তুত এঁরা কোনও রক্তমাংসের মানবী নন। পুরুষের বিপ্রতীপে প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ এঁরা।
নামগুলি সবই তো প্রকৃতি ছেনে কবি তুলে এনেছেন! কখনও লতাগুল্মময় অরণ্যের নাম, কখনও স্থলের ফুলের নাম, কখনও শ্যামলী ধরিত্রীর নাম, কখনও জলজ, পঙ্কজ, পদ্ম- পদ্মিনীর নাম। বস্তুত কবি ধরা পড়ে যান তাঁর শব কবিতাটিতে। তিনি লেখেন, —
“যেখানে রুপালি জ্যোৎস্না ভিজিতেছে শরের ভিতর,
যেখানে অনেক মশা বানায়েছে তাহাদের ঘর;
যেখানে সোনালি মাছ খুঁটে-খুঁটে খায়
সেই সব নীল মশা মৌন আকাঙ্ক্ষায়;
নির্জন মাছের রঙে যেইখানে হ’য়ে আছে চুপ
পৃথিবীর একপাশে একাকী নদীর গাঢ় রূপ;
কান্তারের একপাশে যে-নদীর জল
বাবলা হোগলা কাশে শুয়ে-শুয়ে দেখিছে কেবল
বিকেলের লাল মেঘ; নক্ষত্রের রাতের আঁধারে
বিরাট নীলাভ খোঁপা নিয়ে যেন নারী মাথা নাড়ে
পৃথিবীর অন্য নদী; কিন্তু এই নদী
রাঙা মেঘ— হলুদ-হলুদ জ্যোৎস্না; চেয়ে দ্যাখো যদি;
অন্য সব আলো আর অন্ধকার এখানে ফুরালো;
লাল নীল মাছ মেঘ— ম্লান নীল জ্যোৎস্নার আলো
এইখানে; এইখানে মৃণালিনী ঘোষালের শব
ভাসিতেছে চিরদিন: নীল লাল রুপালি নীরব।
মৃণালিনী মানে পদ্ম বা পদ্মিনী, নীল পদ্ম, লোহিত বা লাল পদ্ম, রুপোর মত সাদা পদ্ম, সেখানে যুগ যুগ ধরে ভেসে থাকে। এটা এক চিরন্তন পদ্মদিঘি। শব আর পদ্ম যেন একাকার কবির বোদলেয়ার, র্যাঁবো-পড়া মানসিকতায়। ফ্রয়েডীয় দর্শনের চূড়ান্ত নিদর্শন। মৃণালিনীর পদবি ঘোষাল যোগ করে তিনি আমাদের ধোঁকা দিচ্ছেন। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ যেন প্রতিভাত হচ্ছে ছত্রে ছত্রে। তেমনি বনলতার পর সেন পদবি জুড়ে তিনি প্রকৃতিকে মানবীর রূপ দেন, সেন নিয়ে সেয়ানাগিরি করেন, আমাদের ধোঁকা দেন আবার। পাড়াগাঁর অরুণিমা সান্যালের মুখ তো আমাদের সকলেরই চেনা, সবুজ ধানক্ষেতের উপর যখন ভোরের সূর্য উঁকি দেয়, তখন তো অরুণিমা ফুটে উঠবেই। শুধু সান্যাল যোগ করে কবি আমাদের ভড়কি দেন। সুরঞ্জনা, সুচেতনা, সরোজিনী, শ্যামলীর পরে তিনি পদবি যোগ করেননি। তাদের আকাঁড়া প্রকৃতি বা নারী রেখে দিয়েছেন। শেফালিকা বোস যে ভোরের শিউলিফুল, তাতো বোঝাই যায়। কিন্তু বোস-গাউনটি পরিয়ে দিয়ে কবি আমাদের ক্লাউন বানিয়ে দেন। সুরঞ্জনা, সুচেতনা, শ্যামলী, সবই নিখাদ প্রকৃতিকন্যা।
এবার দেখা যাক গতানুগতিক ধ্যানধারণাসমূহ।
“আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,/ আমারে দু–দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন’,
বা,
‘সুরঞ্জনা, ওইখানে যেওনাকো তুমি,/ বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে;/ ফিরে এসো সুরঞ্জনা/ নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে; (আকাশলীনা/সাতটি তারার তিমির)’— (বরিশাল, ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯—কলকাতা, ২২ অক্টোবর ১৯৫৪)
‘বনলতা সেন’ বাংলা সাহিত্যের এক বহুলপঠিত/জনপ্রিয় কবিতা। বনলতা সেন যেন শুধু জীবনানন্দ দাশের মানসী নয়, যেন সকলেরই প্রেমিকা। বনলতা সেন, সুরঞ্জনা, সুচেতনা অতি পরিচিত নাম। আর এই পরিচিতির প্রধান রূপকার রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ।এছাড়া, সরোজিনী, সবিতা, শঙ্খমালা, চন্দ্রমালা, মানিকমালা প্রমুখ আপাত নারী–নাম রয়েছে তাঁর কবিতায়। এসব নাম নিয়ে, নারীসংকেত নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রসঙ্গ।
জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন একটি মাস্টারপিস। বাংলায় সবচেয়ে পঠিত একটি চরিত্র বনলতা সেন। জীবনানন্দ দাশের কল্যাণেই ক্লাসিকের মর্যাদা ও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে বনলতা সেন চরিত্রটি। দ্য ভিঞ্চির মোনালিসার মতো জীবনানন্দের মানসকন্যা হচ্ছে বনলতা। বনলতা সেনই যেন আমাদের মোনালিসা। ভিঞ্চির মোনালিসার সুন্দর দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করে, তেমনি জীবনানন্দের বনলতা সেন বাঙালির মানসপটে এক অপূর্ব নায়িকার চিত্রকল্প সৃষ্টি করে। পার্থক্য, মোনালিসা চিত্রকর্ম—শরীরী আর বনলতা সেন অশরীরী। কিন্তু দুজনের প্রতিই পাঠক-শ্রোতার প্রবল আগ্রহ, অমোঘ তার আকর্ষণ। জীবনানন্দের মতো আমরাও আশ্রয় ও প্রশ্রয় খুঁজি বনলতা সেনের মধ্যেই — ‘দু–দণ্ড শান্তি’ খুঁজি তার মধ্যেই। ‘আকাশলীনা’ চরিত্রও বাঙালির মনের আরেকটি আগ্রহের বিষয়। বাঙালির মানসপটে ও বাহ্যিক প্রভাব বনলতা সেনের কাছাকাছি না হলেও বেশি দূরের নয়। আকাশলীনার হৃদয় যেন ঘাস। শঙ্খমালা কিশোরী—কবির অকালপ্রয়াত নায়িকা। শঙ্খমালার প্রসঙ্গ এসেছে একাধিক কবিতায়। ‘করুণ শঙ্খের মতো স্তন’ বা ‘কড়ির মতো শাদা মুখ’ তার। কান্তারের পথ ছেড়ে এসে কবিকে শঙ্খমালা বলেন ‘তোমারে চাই’। জীবনানন্দের বোধে প্রেম, প্রকৃতি ও মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়েছে। হয়তো প্লেটনিক প্রেমে নয়; বরং দেহজ প্রেমে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। বনলতা সেন ও শঙ্খমালার পাশাপাশি ‘সুদর্শনা’ নায়িকার উপস্থাপনাও এমনই প্রমাণ দেয়। সুদর্শনার প্রসঙ্গও একাধিকবার এসেছে। প্রাকৃতিক প্রেমের আশ্রয়েও আধুনিক নাগরিকজীবনের অনুষঙ্গ সুদর্শনা। সুরঞ্জনা প্রেম ও অপ্রেমের দ্বন্দ্ব নিয়ে হাজির হয়েছে জীবনানন্দের কবিতায়। সুরঞ্জনা যেন ‘পৃথিবীর বয়সিনী কোনও এক নারীর মতন’,আবার তার হৃদয় অতি আততিময়, ‘মানুষের তরে এক মানুষীর গভীর হৃদয়’।
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত নারী চরিত্রসমূহ ক্ষণেক্ষেণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘মনে পড়ে কবেকার পাড়াগাঁর অরুণিমা সান্যালের মুখ’ (বুনো হাঁস/বনলতা সেন), ‘এইখানে মৃণালিনী ঘোষালের শব/ ভাসিতেছে চিরদিন: নীল লাল রুপালি নীরব (শব/মহাপৃথিবী)’ পঙ্ক্তির মতো কিছু স্থানে প্রেমিকার নামের সঙ্গে পদবি যোগ (সেন, স্যানাল, ঘোষাল) করে আরও বাস্তব ও জীবন্ত করেছেন। আবার কখনও বা ভৌগোলিক স্থান (নাটোরের বনলতা সেন) যুক্ত করেছেন। জীবনানন্দের কাছে মুক্তির আশ্রয় তিনটি — প্রকৃতি, প্রেম এবং অতীতের রহস্যময় সৌন্দর্যের জগৎ। উল্লিখিত নায়িকাদের প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু পঙ্ক্তি তুলে ধরা যাক—
(১) চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে–নাবিক হারায়েছে দিশা
…সব পাখি ঘরে আসে—সব নদী—ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।
[বনলতা সেন]
(২) শ্যামলী, তোমার মুখ সেকালের শক্তির মতন;
যখন জাহাজে চড়ে যুবকের দল
…তোমার মুখের দিকে তাকালে এখনও
আমি সেই পৃথিবীর সমুদ্রের নীল,
দুপুরের শূন্য সব বন্দরের ব্যথা,
বিকেলের উপকণ্ঠে সাগরের চিল,
নক্ষত্র, রাত্রির জল, যুবাদের ক্রন্দন সব—
শ্যামলী, করেছি অনুভব।
[শ্যামলী/বনলতা সেন]
(৩) সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
[সুচেতনা/বনলতা সেন]
(৪) ‘বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি—কুয়াশার পাখনায়—
…জোনাকির দেহ হতে—খুঁজেছি তোমারে সেইখানে
…চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
…স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো—দুধে আর্দ্র—কবেকার শঙ্খিনীমালার!
এ–পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর’
[শঙ্খমালা/বনলতা সেন]
বনলতা সেন থেকে আকাশলীনা, সুরঞ্জনা হয়ে শঙ্খমালা, মনের মাধুরী দিয়ে নায়িকাদের উপস্থাপিত করেছেন জীবনানন্দ দাশ। সময়ের অস্থিরতা, প্রেম-অপ্রেমের জটিলতার মধ্যেই বিকশিত হয়েছে জীবনানন্দ দাশের কবিতার নায়িকারা, নারীরা। কখনো সুরঞ্জনা, কখনো সবিতা বা সুদর্শনা, কখনো নাম উল্লেখ না করেই জীবনানন্দের নায়িকারা বিকশিত হয়েছে। কবির মানসীরা আক্ষেপ বাড়িয়েছে, অধরা রয়ে গেছে —
‘সরোজিনী চ’লে গেলো অতদূর? সিঁড়ি ছাড়া — পাখিদের মতো পাখা বিনা?
…জাফরান আলোকের বিশুষ্কতা সন্ধ্যার আকাশে আছে লেগে;
লুপ্ত বেড়ালের মতো; শূন্য চাতুরীর মূঢ় হাসি নিয়ে জেগে’
[সপ্তক/সাতটি তারার তিমির]
এসব সফেন আলোচনায় যতই জীবনানন্দের প্রেমিকাদের খোঁজা হোক, তাদের মহিমান্বিত করা হোক না কেন, তাদের খোঁজ মিলবে না। হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে। বনলতা কে, তা নিয়ে অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছেন গবেষকরা। শেষে মিলেছে বিরাট এক অশ্বডিম্ব। তাই পদবিগুলো কবির ভড়কিবাজি ধরে নিয়ে শুধু নামগুলিকে প্রাধান্য দেওয়াই শ্রেয়। তাহলে পুরুষের বিপ্রতীপে প্রকৃতিতে তাদের খোঁজ মিলবে।
জীবনানন্দের কবিতায় নারীদের নাম সচেতনভাবে ব্যবহৃত। কিন্তু তিনি এক্ষেত্রে ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ারের ভাবশিষ্য। তিনি মপাসার সাহিত্যও পাঠ করেছিলেন, র্যাবো, স্যাফোর মতো কবিদের কবিতাও তিনি পড়তেন। বোদলেয়ার তাঁর কবিতায় নারীদের পদবিসমেত ও পদবিবিহীন নাম ব্যবহার করতেন। তারই প্রভাব পড়েছে তাঁর ভাবশিষ্য জীবনানন্দ দাশের কবিতায়।
ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ার তাঁর কবিতায় বহুবার নারীদের নাম ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ Les Fleurs du mal-এ (দ্য ফ্লাওয়ার্স অব ইভিল) বাস্তব ও কাল্পনিক — উভয় ধরনের নারীর নাম ও চরিত্র পাওয়া যায়।
নিচে তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নারীর নাম ও চরিত্র দেওয়া হলো—
১. জ্যান ডুভাল (Jeanne Duval)
তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও প্রেরণা, যাকে বোদলেয়ার “Black Venus” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় লেখা কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতার মধ্যে “Le Léthé” উল্লেখযোগ্য।
২. এপোনিন (Eponine) ও লা’ইস (Laïs)
“Les Petites Vieilles” (বৃদ্ধা নারীরা) কবিতায় এই নামগুলো পাওয়া যায়। এগুলো এমন নারীদের নির্দেশ করে, যারা একসময় সুন্দরী ছিলেন কিন্তু বার্ধক্যে ভগ্নদেহ।
৩. ডেলফিন (Delphine) এবং হিপোলিত (Hippolyte)
“Femmes damnées (À la pâle clarté)” — অর্থাৎ “অভিশপ্ত নারীরা” কবিতার চরিত্র। এই কবিতাটি Les Fleurs du mal-এর প্রথম সংস্করণ থেকে অশ্লীলতার অভিযোগে বাদ দেওয়া ছয়টি কবিতার একটি।
৪. লেডি ম্যাকবেথ ও ক্লাইটেমনেস্ট্রা
একটি কবিতায় বোদলেয়ার শেক্সপিয়ার ও গ্রিক ট্র্যাজেডির (আইসকাইলাস) এই দুই শক্তিশালী “অপরাধে মহাশক্তিশালী” নারীচরিত্রকে উল্লেখ করেন।
৫. দোরোতে (Dorothée), “মালাবার মেয়ে”
ভারত মহাসাগর সফরের সময় বোদলেয়ারের পরিচিত হওয়া এক মেয়ে। তাঁকে নিয়ে লেখা “À une Indienne” (এক ভারতীয়াকে) কবিতাটি পরে “The Malabar Girl” নামে পরিচিত হয়।
এই উদাহরণগুলো দেখায়, বোদলেয়ার তাঁর কবিতায় নির্দিষ্ট নারীচরিত্র ও নাম উল্লেখ করে প্রেম, সৌন্দর্য, পাপ, কামনা এবং মৃত্যুর মতো জটিল বিষয়কে গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন।
কবি জীবনানন্দ দাশ যে বোদলেয়ার, র্যাঁবো, লেসবিয়ান কবি স্যাফোর কবিতা পড়তেন, তার প্রমাণ আছে তাঁর ডায়েরিতে। ডায়রিটি বর্তমানে কার কাছে আছে, জানি না। যদি হাতে পেতাম, তাহলে না হয়া আরও কিছু তথ্য দেওয়া সম্ভব হত।