কলকাতা পুরসভার ১৬ নম্বর বরোর অন্তর্গত ৭টি ওয়ার্ড আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১২৪ নম্বর ওয়ার্ড। ২০১৫ সালের মতোই ২০২১ সালেও এটি তপশিলী ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটিকে উল্লেখযোগ্য বলছি কারণ ২০১৫ সালের পুরসভার ভোটের ফলাফলের দিকে তাকালে বোঝা যাবে এই ওয়ার্ডের প্রধান বিরোধী দল সি পি আই (এম)-এর সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা দল বি জে পি-র মনোনিত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট শতাংশের তফাৎ ৭ শতাংশের একটু বেশি। আর প্রধান বিরোধী প্রার্থীর সঙ্গে বিজিত প্রার্থী রাজীব কুমারের প্রাপ্ত ভোট শতাংশের তফাত ও প্রায় ৭ শতাংশ। সেই বছর এখানে মোট ভোট ছিল ৩৫ হাজার, ৪৭৮। প্রদত্ত ভোট ছিল ২৩ হাজার ৮১৯। প্রদত্ত ভোট শতাংশ ছিল ৬৭ শতাংশের কিছু বেশি। তৃণমূল মনোনিত প্রার্থী রাজীব কুমার দাস পেয়েছিলেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। জিতেছিলেন দেড় হাজারের বেশি ভোটে। ২০২১ সালেও এই ওয়ার্ডে জিতেব তৃণমূল। তবে প্রধান বিধোধী দল কে হবে সেটা জানতে আর কয়েকটা দিন সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। তৃণমূল জিতবে কেন বলছি? তার কারণ উন্নয়ণ।

উত্তরে চন্ডীচরণ ঘোষ রোড, জেমস লং সরণী (ডায়মন্ড হারবার বাইপাস), দক্ষিণে মহাত্মা গান্ধী রোড, পূর্বে পূর্ব বরিষা মৌজার পূর্ব সীমানা ও পশ্চিমে ডায়মন্ড হারবার রোড পর্যন্ত অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিগত ১২-১৩ বছর আগেও দেখা যেতো বর্ষাকালে মানুষ নৌকার সাহায্য নিয়ে নিত্যদিনের কাজ সারতেন। সেই তুলনায় এখন এখানে বর্ষায় জল জমার সমস্যা অনের কমেছে। কেইআইআইপি প্রজেক্টের মাধ্যমে নিকাশী ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ হয়েছে। এখন কিছু কিছু জায়গায় জল জমলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে তা নেমে যায়। রাস্তা ঘাট বিগত দিনের তুলনায় অনেক উন্নত। কাঁচা রাস্তা নেই। মুক্ত ড্রেনের পরিমাণও খুব সামান্য। গার্ডেনরিচের জল পাচ্ছেন এলাকার মানুষ। সৌন্দর্যায়নের দিক থেকে কলকাতার অনেক ওয়ার্ডকেই সুষ্ঠু প্রতিযোগিতায় হারাতে পারে ১২৪ নম্বর। এছাড়া এই ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে চড়িয়াল খাল। রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর চড়িয়াল খালের সংস্কার সাধন হয়েছে। ফলে বর্ষার জল জমার সম্ভাবনা এখন নেই বলেলই চলে। একটা সময় এই ওয়ার্ডটিতে কাঁচা রাস্তা, মাটির বাড়ি, মুক্ত ভ্যাট, কাঁচা নিকাশি ব্যবস্থা — ইত্যাদি ছিল অতি পরিচিত ছবি। কিন্তু বিগত ১১ বছরে এই ছবি পাল্টে গেছে। এখন এই ওয়ার্ড অনেক আধুনিক, অনেক পরিচ্ছন্ন।
কলকাতা পুরসভায় যে ক-জন তরুণ পৌর প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাজীব দাস। ২০১৫ সালে ৯,২৯৯ ভোট পেয়ে তিনি জয়যুক্ত হয়েছিলেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, মানুষের সঙ্গে সবসময় থাকা, অমায়িক ব্যবহার ইত্যাদি একাধিক গুণের কারণে দল ২০২১ সালে পুনরায় তাঁর ওপর ভরসা রেখেছে। ভোটের ফলাফল বেরোতে কিছু দিন বাকী থাকলেও অভিজ্ঞ মহল জানাচ্ছে ১২৪ ওয়ার্ডে এবার তৃণমূলেরই থাকবে। তার কারণ জনপ্রিয়তার নিরিখে রাজীববাবু অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে অনেক এগিয়ে। জনপ্রিতয়তার প্রধান কারণ জনসংযোগ। তাই বলাই যায় এই ওয়ার্ডে তৃণমূল তথা রাজীব দাসের জনসংযোগ বেশ মজবুত। এই ওয়ার্ডটির পরিধির সঙ্গে জনসবতিও বেশি। কিছু দিন আগেই সারা কলকাতা তথা রাজ্যবাসীর সম্মুখিন হয়েছিল বিভৎস্য আমফানের। সেই দুর্দশার দিনে প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীর পাশে থেকেছেন রাজীববাবু। এছাড়া করোনা মহামারিতেও মানুষকে পুরসভার যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় আনতে সফল হয়েছেন তিনি। উপরন্তু প্রতি ঘরে ঘরে আজ পৌঁছে যাচ্ছে বিনামূল্যে রেশন।

স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রভৃতি ম্যান টু ম্যান পরিষেবাগুলিও এলাকার মানুষ পাচ্ছেন। তাই তৃণমূলের প্রার্থী রাজীব দাসের প্রতি মানুষ যে আবার ভরসা করবেন — এ কথা বলাই বাহুল্য। বিগত সাড়ে ছ’ বছর আগেকার দেখা রাজীব দাসের সঙ্গে আজকের রাজীব দাসের তফাৎ অনেক। এখনকার রাজীব দাস আরও দায়িত্বশীল, আরও পরিপক্ক, আরও দক্ষ। পাঁচ বছর কাউন্সিলরের সঙ্গে সামলেছেন দেড় বছরের ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বও। প্রত্যয়ী রাজীব বলেন, ‘মানুষ-ই শেষ কথা। তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত।’ তবে দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন উন্নয়ণের শেষ নেই। এটি একটি ধারাবাহীক প্রক্রিয়া। তাই আগামী পাঁচ বছর তৃণমূলের তথা রাজীব দাসের হাত ধরে এই এলাকার মানুষ যে আরো উন্নত মানের পৌর পরিষেবা পাবে — সে বিষয়ে আশাবাদী ১২৪ ওয়ার্ড। রাজীববাবু নিজে জানালেন ইতিমধ্যে এলাকার অধিকাংশ মানুষ-ই দুয়ারে সরকার প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে ওয়ার্ডের ১০০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় সেই বিষয়ে বিশেষ নজর দেবেন তিনি।