বিশ্ব তীব্র খাদ্য সঙ্কটে। প্রতি ১ মিনিটে ভয়াবহ অপুষ্টিতে আক্রান্ত হচ্ছে একটি করে শিশু, জানাচ্ছে ইউনিসেফ। এই অবস্থা চলছে বছরের গোড়া থেকেই। দুনিয়াজোড়া এই খাদ্য সঙ্কট ব্যাপক চেহারা নিয়েছে পৃথিবীর ১৫টি দেশে। সময় যত গড়াচ্ছে ততই তীব্র হচ্ছে এই সঙ্কট। বছরের শুরুতে এই সংখ্যাটা ছিল ৭.৭ মিলিয়ন, চলতি মাসে তা দাঁড়িয়েছে ৭.৯ মিলিয়নেরও বেশি। অপুষ্টিতে ভোগা এই শিশুদের দেখেই চেনা যায়। কঙ্কালসার চেহারা, বয়সের অনুপাতে উচ্চতায় খাটো, পেটের অসুখ, ম্যালেরিয়া এবং হামের মত রোগে সবসময় ভুগছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আফ্রিকার দেশগুলিতে। গ্লোবাল চাইল্ড প্রোটেকশন এজেন্সির হিসেবে ৫ বছরের নিচে প্রায় ৮ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টি ও অসুখে ভুগতে ভুগতে প্রায় মৃত্যুর দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তান, বারকিনা ফাসো, চাদ, গণ প্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ইথিওপিয়া, হাইতি, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের অবস্থা সবথেকে খারাপ। জি সেভেন দেশগুলির শীর্ষ সন্মেলনের মুখে পৃথিবীর একাংশের শিশুদের শরীর স্বাস্থ্যের ভয়াবহ চেহারা উন্নত দেশগুলিকে বিরাট প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। এব্যাপারে তাদের এগিয়ে আসার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। কোন একটি বিশেষ কারণে এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তা নয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ইউক্রেন-আফগানিস্থানের মত দেশগুলিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি, খরা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা সবমিলিয়ে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কোভিডের অর্থনৈতিক ধাক্কা তো আগে থেকেই ছিল। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসেবে বিশ্বে কমপক্ষে ৪০ মিলিয়ন শিশু বঞ্চিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য থেকে।

অবস্থা সামলাতে এই বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলির কাছে খাদ্যাভাব পীড়িত শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে ইউনিসেফ। এরজন্য ব্যয় হবে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার। চটজলদি ব্যবহার করা যায় এমন স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের প্যাকেট পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন পুষ্টিবিজ্ঞানীরা। এই প্যাকেটে থাকবে গুঁড়ো দুধ, বাদাম, মাখন, ভোজ্য তেল, চিনি সবমিলিয়ে ৫০০ ক্যালোরির খাদ্য। তাদের মতে অবিলম্বে রোগাক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা শুরু করতে হবে। তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। কোনভাবেই যাতে খাবার নষ্ট না হয় জোর দিতে হবে তার ওপর। উন্নত দেশগুলি এই মুহূর্তে সঙ্কট মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে না পড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।