আশঙ্কা বোধহয় আরও বেশী করে ভালোবাসতে শেখায় জীবনকে। এই আশঙ্কায় বোধহয় ক্ষয়িষ্ণু এক পরিবারকে হয়তো একবারের জন্যেও আলিঙ্গনবদ্ধ সমষ্টিগত এককে বদলাতে পারে। এখনও অবধি যা খবর পেলাম দুইজন বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মারা গেছেন আকস্মিক এক টর্নেডোর প্রকোপে। উড়িষ্যার চার জেলার কিরকম অবস্থা এখনও জানিনা। আজ ‘ইয়াস’ নামক ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গে কিরকম প্রভাব ফেলবে, তাও জানিনা। এখন প্রতিটা মানুষ ভয় পাচ্ছে। ভয় পাচ্ছে মৃত্যুকে। ভয় পাচ্ছে চেনা মুখের মুহুর্তে কথা বলা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে। ভয় পাচ্ছে বিয়োগকে। বিয়োগের ভয় আরও বেশী বেশী করে যোগ করছে মানুষকে।
আগে যে মানুষ এক ছিল, আজ বিয়োগের আশঙ্কায় তারা দুই হয়েছে, পরশু তিন হবে। বিয়োগ বন্ধ হয়ে যাক চিরতরে। কিন্তু ক্ষয়ে ক্ষয়ে ভগ্নাংশে পরিণত মানুষ যদি একটুকুর জন্যেও জীবনকে ভালোবেসে থাকে এই আশঙ্কাবহুল জীবনটাতে, তবে সে যেনো এই যোগের অভ্যাস না বদলায়। মৃত্যুভয় মানুষকে বুঝিয়েছে জীবনের গুরুত্ব। বিয়োগের সারণী মানুষকে বুঝিয়েছে যোগের গুরুত্ব। এই সঙ্কট, আয়নার মতো মানুষকে দেখিয়েছে, সে আদতে একটি ভগ্নাংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।প্রাচীন বসুন্ধরার কোনো প্রজাতিই কিন্তু ভগ্নাংশে স্থায়ী হতে পারেনি, বিয়োগের সারণী বেয়ে টিকে থাকতে পারেনি। এই মানুষকেই আরও একবার যোগের অভ্যাসে ফিরতে হবে, ফিরতেই হবে।

একদিন, যোগে যোগে ভগ্নাংশের শঙ্কা কেটে পূর্ণতাপ্রাপ্তি হবে মানুষের, বিশ্বাস করি। সমষ্টিবদ্ধ জীব সমষ্টি ছাড়া থাকতে পারেনি কোনোদিন, থাকতে পারেনা। মেঘ কেটে যাবে একদিন, তাকে কাটতেই হবে। পৃথিবীর কোনো মেঘ কোনোদিনও সূর্যের চেয়ে বড়ো হতে পারেনি।
কিন্তু পূর্ণ সূর্যোদয়ের দিন, মানুষ যেন বলতে না ভুলে যায়—‘লাভ ইউ জিন্দেগী’। জীবন নিয়ে জীবনপ্রেমিক বিশ্বকবির দু-লাইন না আওড়ালেই নয়—‘ওহে পবিত্র, ওহে অনিদ্র, রুদ্র আলোকে এসো’।